জেলা প্রতিনিধি নড়াইল
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় পূর্বে পেয়াজের চাষ তেমন ছিলো না। বছর ২ হলো নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় ভালো দাম পেয়ে পেঁয়াজ চাষের দিকে ঝুঁকছেন এলাকার কৃষকরা। চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার অধিক জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। তবে পেঁয়াজ চাষ লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এ অঞ্চলে চাষীরা পেঁয়াজের চাষের দিকে ঝুকে পড়েছে।
লোহাগড়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ৩১০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছিল। এ বছর সেখানে ৩২০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এ অঞ্চলে বারি-৪ ও তাহেরপুরী জাতের পেঁয়াজ চাষ করে থাকেন কৃষকরা।

লোহাগড়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মুনমুন সাহা জানান, গত ৪ থেকে ৫ বছর আগেও এ উপজেলার কৃষকরা পেঁয়াজ চাষ করে উৎপাদন খরচ ঘরে তুলতে পারেনি। গত দুই বছর ধরে পেঁয়াজের দাম বেশী হওয়ায় অন্যান্য ফসল ছেড়ে কৃষকরা পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকছেন।
শালনগর ইউনিয়নের গ্রামের কৃষক ইউপি সদস্য আলমগীর বলেন,গত বছর আমি ১ একর জমিতে পেঁয়াজের চাষ করে ছিলাম। ভাল দাম পাওয়ায় এ বছর দুই একর জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছি। তবে এবছর আবহাওয়া ভালো সে কারনে ভালো ফলন হবে বলে আশা করছি।
জয়পুর ইউনিয়নের ধোপাদাহ গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন,এ বছর আমি প্রথম ৫০ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়েছি। ভালো ফলন হলে বাজারে ভালো দাম পেলে আগামীতে আরও বেশি জমিতে পেঁয়াজের চাষ করবো।
কালনা গ্রামের কৃষক আছাদ ও আনিস বলেন,পাঁচ বছর আগে বাজারে পেঁয়াজের দাম ভালো ছিল না। আমি পেঁয়াজ বাদ দিয়ে অন্য ফসল চাষ করে ছিলাম। তবে দুই বছর ধরে বাজারে পেঁয়াজের দাম বেশী হওয়ায় এ বছর এক একর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি।আশা করছি এবছর ভালো ফলন ও ভালো দাম পাবো।
লোহাগড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ মুনমুন সাহা মঙ্গলবার(৫ মার্চ) সকালে বলেন, ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকছেন। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩২০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আশা করি এবছর পেঁয়াজের ফলন ভালো হবে। তবে এ এলাকার মাটি পেঁয়াজ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। পেয়াজের বাজার যদি এমন থাকে আগামীতে এর দ্বিগুন চাষি বেড়ে যাবে। তাছাড়া সবসময় আমরা চাষীদের সহোযোগিতা করছি এবং পেয়াজ চাষে উদ্বুদ্ধ করছি।

