মোঃ আবু তালহা রাফি হাটহাজারী উপজেলা প্রতিনিধি
অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে টানা সপ্তম দিনের মতো চলমান কোটা বিরোধী আন্দোলন। সরকারি চাকরিতে কোটা-পদ্ধতি বাতিল এবং ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহাল রাখা সহ মোট চার দফা দাবি নিয়ে শিক্ষার্থীরা রাজপথে অবস্থান করছে।
রবিবার বিকেল ৪:৪৫ থেকে চট্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ষোলশহরে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলকারীরা। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ষোলশহর থেকে শহরের ২নং গেট পর্যন্ত সম্পূর্ণ রাস্তা অবরুদ্ধ করে রাখে। এসময় উপস্থিত ছিলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা যাদের মূল শ্লোগান ছিল, ‘কোটা নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক’।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, যতদিন না দাবি মেনে নেওয়া হবে ততোদিন পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে, সময়ের সাপেক্ষে আরো কঠোর থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তারা।
কোটা ব্যবস্থার কারণে অনেক মেধাবী জনশক্তি চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বিপরীতে অনেক অযোগ্য ব্যাক্তি দায়িত্বের আসনে উপবিষ্ট হচ্ছে যা সামগ্রিক ভাবে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। দেশের সার্বিক কল্যাণের স্বার্থে কোটা ব্যবস্থার অবসান হওয়া প্রয়োজন বলে তারা মন্তব্য করেন।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস পরীক্ষা বর্জন ঘোষণা করার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ফার্সি, দর্শন বিভাগের পাশাপাশি অন্যান্য বিভাগগুলো একের পর এক ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
কোটা সংস্কারের দাবিতে ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ডাক দিয়েছে বশেমুরবিপ্রবি এর সাধারণ শিক্ষার্থীরাও।
এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের সংশ্লিষ্ট জায়গা থেকে ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের পাশাপাশি সড়ক- মহাসড়ক অবরোধ করছে।
এর আগে, গত ৯ই জুন প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনী সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
এরপর থেকেই শুরু হয় দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা বিরোধী আন্দোলন। যা বর্তমানে তীব্র আকার ধারণ করেছে।
উল্লেখ্য বর্তমানে প্রযোজ্য কোটা বিন্যাস নিম্নরুপ
বিসিএসে ৫৬% কোটা, ১ম ও ২য় শ্রেণির নন ক্যাডার জবে ৬১% কোটা, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির জবে ৭০% এবং রেলওয়ে জবে রয়েছে ৮২% কোটা।

