নূর মোহাম্মদ,ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে ঘটে যাওয়া এক অপ্রীতিকর ঘটনার জেরে সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং একজন সাংবাদিককে জেলহাজতে পাঠানোর ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
রানীশংকৈল উপজেলা প্রেস ক্লাব এ ঘটনাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বড় ধরনের অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত বুধবার (৭ এপ্রিল) সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় খোলা রাখা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মামুনুর রশিদ মামুন সেখানে উপস্থিত হয়ে পিআইও নূরুন্নবী সরকারের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চান।
এ সময় পিআইও কার্যালয়ের কর্মচারী মো. আইয়ুব আলী অফিসের বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সময় সংবাদ সংগ্রহে উপস্থিত থাকার কারণে সাংবাদিকদের জড়িয়ে পিআইও নূরুন্নবী সরকার বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে রানীশংকৈল উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমানকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া তরুণ সংবাদকর্মী ও প্রেস ক্লাবের কার্যকরী সদস্য রাকিব ফেরদৌসের নামও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে রানীশংকৈল উপজেলা প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ বলেন,“পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের এভাবে হয়রানি করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নজিরবিহীন। একটি স্বাধীন দেশে সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার এ ধরনের অপচেষ্টা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তারা আরও বলেন, নিয়ম ভঙ্গ করে গভীর রাত পর্যন্ত অফিস খোলা রাখার দায় এড়াতে এবং প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই সাংবাদিকদের বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত সাংবাদিক জিয়াউর রহমানের নিঃশর্ত মুক্তি এবং রাকিব ফেরদৌসসহ অন্যান্যদের নামে দায়ের করা ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।
অন্যথায়, সাংবাদিক সুরক্ষা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় স্থানীয় সাংবাদিকরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

