সুলাইমান পোদ্দার স্টাফ রিপোর্টার (ভোলা)।।
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হারে অবনতি ঘটেছে। একের পর এক চুরি ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।গরু,হাঁস,মুরগি,সুপারি,টিউবওয়েলের মটর, এমন কি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদের মালামাল ও বাদ যায়নি চোরের হাত থেকে। প্রতিদিন রাত নামলেই বিভিন্ন ইউনিয়নে সংঘটিত হচ্ছে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা, বিশেষ করে চাঁদপুর ইউনিয়নের সিকদারকান্দি ও কাজিকান্দি এলাকায় চোর চক্রের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। যা স্থানীয়দের নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা আরও গভীর করছে।

এই সপ্তাহে চাঁদপুর ইউনিয়নের সিকদারকান্দি এলাকায় যুবদল নেতা ফরিদের ঘর চুরি হয় একই এলাকায় পাটোয়ারী বাড়ির সেনাসদস্য আবিরের বাসায় বেড়া কেটে মালামাল চুরি হয়। গত ৩ মার্চ সিকদার কান্দি মালেক সিকদারের বাড়িতে মাকসুদের গোয়ালঘর থেকে গরু চুরি করতে না পেরে গোয়ালঘরে আগুন দেয় চোর চক্র। ৭ মার্চ রাতে পল্টি মোরগ ব্যবসায়ি মোঃ রনির বাসায় খাবারের সাথে নেশাদ্রব্য মিসিয়ে অচেতন করে নগদ একলক্ষ টাকা ও স্বর্নলংকার লুটে নেয় চোররা। একই কায়দায় ৩ মার্চ কাজিকান্দি রোডে সেনাসদস্য আরিফের বাসায় খাবারের সাথে নেশাদ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে স্বর্নলংকার চুরি করে নিয়ে যায়। গত ৪ মার্চ কাজিকান্দি ব্যাপারি বাড়ির মসজিদের পাশে প্রবাসী সিরাজের বাড়িতে একইভাবে ঢোকার চেষ্টা করলেও পরিবারের সদস্যরা জেগে যাওয়ায় তারা সফল হয়নি।
গত ৪ মার্চ চাঁদপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড অনিল সাদুর মন্দিরের দক্ষিণ পাশে স্কুল শিক্ষক লিটন দাসের পাকা গোয়াল ঘরের তালা ভেঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান জাতের একটি গাভী গরু চুরি করে নিয়ে যায় অজ্ঞাত চোর চক্র। এমনকি রেহাই পায়নি কাজিকান্দি গোরস্থান মসজিদে টিউবওয়েল মটর ও তজুমদ্দিন উত্তর বাজার জমে মসজিদের জেনারেটরের ব্যাটারি চুরির ঘটনা ঘটে।তার আগে চাঁদপুর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার চারটি বৈদ্যুতিক ফ্যান চুরির হয় এবং শম্ভুপুর ইউনিয়নের দেবীপুর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অফিস কক্ষের তালা ভেঙ্গে কম্পিউটার সহ প্রিন্টার ছুটির ঘটনা ঘটে এর কিছুদিন পরে উক্ত মাদ্রাসার পানির মটর ও পানির টিউবয়েলে চুরির ঘটনা ঘটে। কিছুদিন আগে উত্তর বাজারের পশ্চিম পাশে মরহুম আবুল কালাম মিয়ার বসত ঘরের বেড়া কেটে নগদ স্বর্নলংকার, সুপারি ও ঘরের মালামাল চুরির ঘটনায় ঘটে একই এলাকায় নুরুজ্জামান মাস্টারের টিউবওয়েলে নতুন মটরের বিদ্যুৎের লাইন কেটে মটর চুরির ঘটনা ঘটেছে। একই রাত্রে অলিউল্লাহ সেক্রেটারির বাড়ির টিউবওয়েলের গোড়া থেকে কেটে নিয়ে যায় চোর চক্র। একই এলাকায় মাওলানা আইয়ুব আলীর ঘরের দরজা ভেঙে দুর্বৃত্তরা তার ব্যবহারিত পানির মটার, হাঁস-মুরগি নিয়ে যায়। এর আগে একই এলাকার মরহুম মাহমুদুল্লাহ মিয়ার বাসায় টিউবওয়েল মোটর চুরি করে নিয়ে যায় চোর চক্র। দিন দিন বেড়েই চলেছে প্রতিটি ইউনিয়নের চুরির ঘটনা। এতে দিনদিন সাধারণ জনতার মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়তেছে। বিশেষ করে প্রতিদিন রাত দশটার পরে প্রতি এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দল বেড়িয়ে পরেন এতে জনমনে আরো আতংকিত হন।
তজুমদ্দিন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান এলাকার চুরির ঘটনাগুলো থানায় কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা করা হবে।
পরপর চুরির ঘটনায় পুরো তজুমদ্দিনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর জোর দাবি—চোরচক্র দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, রাতে গ্রাম পাহারায় গ্রামপুলিশ সদস্যদের কে সক্রিয় করতে হব। সন্দেহভাজন ও চিহ্নত চোর,নেশায় আসক্তদের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি এবং জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

