আবুজর গিফারী, পাবনা প্রতিনিধি:
পূর্বের মারামারির ঘটনার জের ধরে একব্যক্তির মৃত লাশ নিজ গ্রামের কবরস্থানে কবর দিতে না দেয়ার অমানবিক ঘটনা ঘটেছে পাবনার বেড়া উপজেলার তারাপুর গ্রামে। গত বছর ২৫ জুলাই মসজিদ কে কেন্দ্র করে তারাপুর গ্রামে বড় ধরনের এক মারামারি সংঘর্ষ হয়, যেখানে দুই জনের মৃত্যু হয়। এরপর থেকে হত্যা মামলার অভিযুক্ত আসামি পক্ষ এলাকা থেকে বিতাড়িত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ভাসমান ভাবে বসবাস করছেন।
পাবনার বেড়া উপজেলার চাকলা ইউনিয়নের তারাপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত ইছহাক আলীর ছেলে আব্দুর রাজজাক ইন্তেকাল করলে, মৃত্যুর পর তার আত্মীয়-স্বজন মৃত. আব্দুর রাজ্জাককে নিজ গ্রামে তারাপুর কবরস্থানে দাফন করার জন্য গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিকট মানবিক সহযোগিতা কামনা করেন। অনেক অনুনয় বিনয় করে আব্দুর রাজজাকের আত্মীয়-স্বজন কোন ভাবেই সেখানে কবর দেয়ার অনুমতি না পেয়ে বাধ্য হয়ে আব্দুর রাজ্জাকের শশুর বাড়ির এলাকার নেওলাইপাড়া কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
মৃত. আব্দুর রাজ্জাকের বড় ছেলে হাসান অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, আমার বাবা আজ দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন, তার পিতা, মাতা, আত্মীয়-স্বজন যে কবরে শুয়ে আছেন সেই কবরেও আমার বাবাকে কবরস্থ করতে পারলাম না এই কষ্টের কথা কাকে বলবো, কার কাছে এই বিচারের ভার দেব? তিনি আরো বলেন, গ্রামের প্রধানদের কাছে মানবিক আবেদন করেও কোন লাভ হয়নি, তাই বাধ্য হয়ে নানার বাড়ি এলাকায় আমার বাবাকে কবর দিতে হলো।
জানাযায় উপস্থিত হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি মোঃ মমিনুল ইসলাম বলেন, হিংসা-বিদ্বেষ, ঝগড়া, মারামারি, হত্যা এগুলো কখনো শান্তি দিতে পারে না, অনেক হয়েছে এবার আমরা মুক্তি চাই। সাত মাস আগে মামলা থেকে জামিন নিলেও নানান ভয়-ভীতি দেখানোর কারণে এখনো আমরা কেউ বাড়িতে যেতে পারিনি। শেষ বয়সে নিজের এলাকায় ফিরে গিয়ে নিজের বাড়িতে বসবাস করতে চাই।

