মো:জাকির হোসেন নীলফামারী প্রতিনিধি:
রাস্তা সংষ্কারে নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে নামকাওয়াস্তে কাজ করায় এক দিনেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং। ড্যামেজ দেয়ালের পলেস্তারার মত করে হাত দিয়েই টেনে তোলা যাচ্ছে ওই কার্পেটিংয়ের চাক। এমন দূর্নীতি ও খামখেয়ালীর বিষয়ে প্রশাসনকে জানানোর পরও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে বিক্ষুব্ধ জনতা ঠিকমত কাজ করার দাবীতে ঠিকাদারের একটি রোড রোলার আটকে রেখেছে। এমন ঘটনা ঘটেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের কাচারীপাড়ায়।
জানা যায়, ওই এলাকায় নয়াপাড়া মসজিদ থেকে উত্তর দিকে ৩৭৫ মিটার কাঁচা রাস্তা পাকা করার উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। গ্রামীণ রাস্তা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩১ লাখ ব্যায়ে রাস্তা সংষ্কারের এই কাজ পায় নীলফামারীর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স খুশি এন্টারপ্রাইজ।
গত বছরের নভেম্বরে শুরু করা হয় কাজ। কিন্তু প্রথম থেকেই অনিয়মের আশ্রয় নেয় ঠিকাদার। বেজমেন্টে শিডিউল মোতাবেক বালুর না দিয়ে ভিটি মাটি এবং তা সামান্য গর্ত করে দেয়া হয়। আর খোয়ার (গিট্টি) ক্ষেত্রে একেবারে নিম্নমানের ইটের বড় বড় টুকরো ফেলা হয়। এলাকাবাসী এর প্রতিবাদ করে মানসম্মত কাজ করার দাবী জানান। কিন্তু তাতে তোয়াক্কা করেনি কর্তৃপক্ষ। এলজিআরডি কর্তৃপক্ষকে জানালেও ভ্রূক্ষেপ করা হয়নি।
সর্বশেষ গত সোমবার (৮ জানুয়ারী) কার্পেটিং করার সময়ও কোনরকমে পিচ এবং পাথরের পাতলা আস্তরণ দেয়া হয়। রাতের বেলা নামকাওয়াস্তে কার্পেটিং করায় একদিন পরই পুরো রাস্তা জুড়েই উঠে যাচ্ছে পাথর। চিকন পাথর ৭ মিলি এবং মোটা পাথর ২৫ মিলি এর জায়গায় দুইটি মিলে ২৫ মিলি পুরুত্বের কার্পেটিং করা হয়েছে। পিচও ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের এবং পরিমাণে কম। যে কারণে পিচ ও পাথরের স্তর কার্পেটের মত উঠে আসছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার (১০ জানুয়ারী) দুপুরে সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে সত্যতা পাওয়া যায়। এসময় এলাকার সচেতন লোকজন জানান, মূলত: এলজিআরডির ইঞ্জিনিয়ারদের যোগসাজশেই এতটা দূর্নীতি করছে ঠিকাদার। লোকদেখানো কাজ সরকারী লোপাট করছে। আর বদনাম হচ্ছে সরকার তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। এর প্রতিকার চাই।
তারা বলেন, প্রশাসনকে জানালেও তারা গুরুত্ব দেয়নি। ভালো করে কাজ করার দাবীতে ঠিকাদারের একটা রোড রোলার আটকে রেখেছে এলাকাবাসী। তারপরও কেউ আসেনি। কারণ আসলে তাদের অপকর্মে হাতে নাতে ধরা পড়বে। লোকেরা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিবে কতটা দুইনম্বরি করেছে তারা। এই দূর্নীতির প্রতিবাদ জানিয়ে বিচার দাবী করেন তারা।
এব্যাপারে এই প্রকল্পের সাইড অফিসার (এসও) সৈয়দপুর উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী কবিরের
০১৭৪৮৯৬৩৭৩৮ মুঠোফোনে কথা হলে তিনি ক্ষুব্ধ স্বরে বলেন, যারা কাপিটিং তুলেছে তাদের নামের তালিকা নিয়ে আসেন। সারা বছর কাজ ভালো করেছি তা সাংবাদিকদের চোখে পড়ে না এখন কাজের বিষয় খোঁজ খবর নিচ্ছেন।
খুশি এন্টারপ্রাইজ মালিক মোখছেদুল ইসলাম বলেন, নয়াপাড়ার স্হানীয় লোকজন কয়েকটি গ্রুপে আমার কে চাঁদা দাবি করে।আমি চাঁদা না দেওয়া তারা রাস্তা খুঁড়ে রেখে দেয়। আমার রোলার আটক করে রেখেছে। আমি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলীকে মোখিক অভিযোগ করেছি।
উপজেলা প্রকৌশলী এম এম আলী রেজা বলেন, কাজ খারাপ হয়নি। নিম্নমানের উপকরণও দেয়া হয়নি। হয়তো বেড ভালো ভাবে পরিস্কার না হওয়ায় কার্পেটিং এভাবে উঠে যাচ্ছে। সেখানে মাটি ছিল বা ধুলা ময়লা ছিল। অথবা বেডে যে ওয়েল দেয়া হয় তা সঠিকভাবে প্রয়োগ হয়নি। বিষয়টি আমরা দেখছি। তেমন কোন সমস্যা থাকলে তা সমাধান করা হবে। আর ঠিকাদারের বিল এখনও দেয়া হয়নি। তাই তাদের কোন ত্রুটি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

