বিপ্লব সরকারঃ স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁ
নওগাঁর পত্নীতলায় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের বর্তমান কমিটি নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে এবং সংগঠনের সক্রিয় সদস্যদের না জানিয়ে তথাকথিত ‘ভুয়া’ আহবায়ক কমিটি গঠনের প্রতিবাদে আজ বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১১টায় নজিপুর পৌর পার্কে এক বিশাল প্রতিবাদ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ এবং পত্নীতলা উপজেলা খ্রিস্টান উপাসনা কমিটির যৌথ উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।
মূল্যবান বক্তব্য ও সভাপতির অভিমত বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি সবুজ সাহার সভাপতিত্বে এবং শংকর চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সবুজ সাহা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পত্নীতলায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নামে কোনো কমিটি গঠন করা হয়েছে কিনা তা আমাদের জানা নেই। কতিপয় ব্যক্তি ব্যক্তিগত স্বার্থে জেলা কমিটিকে ভুল তথ্য দিয়ে এই পকেট কমিটি অনুমোদন করিয়ে এনেছে, যা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না।”
বক্তাদের অভিযোগ সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন যে, গোপাল চন্দ্র শীল, কার্তিক শীল, নিতাই চৌধুরী, রণজিৎ এবং রনি কুমার দাসের যোগসাজশে জেলা কমিটিকে বিভ্রান্ত করে একটি ভুয়া আহবায়ক কমিটি তৈরি করা হয়েছে। কমিটির অনেক সদস্য এমনকি সদস্য সচিব পর্যন্ত এই কমিটি গঠনের বিষয়ে কিছুই জানেন না। আরও অভিযোগ তোলা হয় যে, এই তথাকথিত কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতাই মাদক সেবনের মতো অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, যা ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করছে। বর্তমানে এই কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন দপ্তর ও স্থানে কমিটির নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও সভায় জানানো হয়।
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ প্রতিবাদ সভায় সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন: উৎপল সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট। বাবু যোসেফ হেমব্রম, সভাপতি, উপজেলা খ্রিস্টান উপাসনা কমিটি। সুবোধ উরাও, সভাপতি, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ। বাসুদেব তিগ্যা, সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ। প্রফেসর যামিনী কান্ত মন্ডল, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ। প্রফেসর প্রণব কুমার দাস।
এছাড়াও সভায় উত্তম কুমার সাহা, শুনিরাম মিনজি সহ বিভিন্ন সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
দাবি ও হুঁশিয়ারি উপস্থিত নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই ‘অবৈধ’ ও ‘ভুয়া’ কমিটি বাতিল করে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের জোর দাবি জানান। অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

