জেলা প্রতিনিধি :নড়াইল
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় মা” ইলিশ” সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় প্রান্তিক জেলেদের মাঝে ২৫ কেজি করে চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগীদের তালিকা প্রকাশ না করা, প্রকৃত ইলিশ শিকার জেলেদের বঞ্চিত করার অভিযোগে এলাকাজুড়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অক্টোবর মাসে ৪ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকায় জেলেদের জন্য সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় জনপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।
চাউল বিতরণ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট এলাকার চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যানরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার নিকট কোন তালিকা প্রদান করেন নাই বলে সাফ জানিয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাসুম খান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,লোহাগড়া উপজেলার নদী তীরবর্তী সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মোট ১ হাজার ৪৩৬ জন নিবন্ধিত কার্ডধারী জেলের মধ্য থেকে ৬০০ জন ইলিশ শিকারি জেলেদের ভিজিএফের ২৫ কেজি চাউল দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে ইতনা ইউনিয়নে ২০০ জন, কোটাকোলে ১০০ জন, মল্লিকপুরে ৬০ জন, লোহাগড়া পৌরসভায় ৫০ জন, লোহাগড়া ইউনিয়নে ৫০ জন, জয়পুরে ৩০ জন, শালনগরে ৫০ জন এবং লাহুড়িয়ায় ৬০ জন জেলের তালিকা অনুমোদিত হয়।
তবে বাস্তবে চাল বিতরণ নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জেলেদের দাবি, তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও অনেকেই চাল পাননি। আবার প্রকৃত অনেক জেলের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। জেলেরা অভিযোগ করেছেন, তাদের একটি বড় অংশ সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা ইলিশ শিকারি জেলেদের (ভিজিএফ) চাউলের তালিকা চাইলে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম খান বলেন আমার কাছে তালিকা নাই, তালিকাটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) অফিসে রয়েছে।
ওই সময় সাংবাদিকরা পিআইও অফিসের কম্পিউটার অপারেটর অভিজিৎ কুমার বলেন এক সপ্তাহ আগে ফটোকপির কথা বলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তালিকাটি নিয়ে গেছেন এবং পরে আর ফেরত দেননি। এরপরও কয়েক দফা যোগাযোগ করলেও বিভিন্ন অজুহাতে তালিকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি দুই অফিস।
এই মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম খানের কৃতকর্ম একের পর এক ভেষে উঠেছে তারপর ও প্রশাসন নিশ্চুপ। এটা কি তাহলে দূর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ?
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী কায়সার বলেন, “জেলেদের মাঝে চাল বিতরণের তালিকা অবশ্যই সংরক্ষিত থাকবে এবং সাংবাদিকরা চাইলে তা দেওয়ার কথা। বিষয়টি আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।”
স্থানীয়দের দাবি, চাল বিতরণে অনিয়ম ও প্রকৃত উপকারভোগীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে উপকারভোগীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করে বিতরণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

