মাধবপুর হবিগঞ্জ প্রতিনিধি,,
মাধবপুর উপজেলার সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে একটি চরম দায়িত্বহীনতার চিত্র সামনে এসেছে। দীর্ঘ ৩০ বছর সরকারি চাকুরিতে থাকা ক্ষিতিশ রায় নামের এক ব্যক্তি মাধবপুর উপজেলায় ভুয়া নাগরিকত্ব দেখিয়ে চাকরি করেছেন। অবসরে যাওয়ার পরও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে নি।
তথ্য অনুসারে, ১৯৮৯ সালে ক্ষিতিশ রায় সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক হিসেবে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগে যোগদান করেন। তিনি যোগদানের সময় নিজেকে মাধবপুর উপজেলার আদাঐর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হিসেবে দেখান। তবে বাস্তবে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার সাতবর্গ গ্রামের বাসিন্দা এবং এখনও সেখানেই বসবাস করেন।
পেনশন সুবিধার জন্য ক্ষিতিশ রায় কৌশলে স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে ভুয়া নাগরিকত্ব সনদ গ্রহণ করেন। সচেতন মহলের মতে, এর ফলে প্রকৃত মাধবপুরবাসীরা সরকারি ও বেসরকারি চাকুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
আদাঐর ইউনিয়নের স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ক্ষিতিশ রায় আদাঐর ইউনিয়নের বাসিন্দা নন। ইউনিয়নের সদস্যরাও জানিয়েছেন, তার বসবাস মূলত সাতবর্গ গ্রামে এবং শুধু কিছু জমি রয়েছে মাধবপুরে। তবে কীভাবে তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে ভুয়া তথ্য দিয়ে নাগরিকত্ব সনদ নিয়েছেন তা অজানা।
চেয়ারম্যান মীর খুর্শিদ আলম বলেছেন, ক্ষিতিশ রায় নিজেকে স্থানীয় নাগরিক পরিচয় দিয়ে সনদ নিয়েছেন। তিনি সনদের প্রক্রিয়ায় তথ্য গোপন করা হয়েছে বলে জানান।
ক্ষিতিশ রায়ের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি প্রথমে পৌরসভার ভোটার বলেন,পরবর্তী আবার বলেন না আমি আদাঐরের ২নং ওয়ার্ডের ভোটার,যদিও বর্তমানে তাঁর বাসস্থান সাতবর্গ গ্রামে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু সরকারি চাকরির স্বচ্ছতা নষ্ট করছে না, বরং স্থানীয়দের অধিকার হরণ করছে।

