রাসেল কবির// বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা কাজিরহাট থানায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে মাদক ও জুয়ার আসর। কাজিরহাট থানার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে দিনদুপুরে বসছে জুয়ার আড্ডা, আর হাত বাড়ালেই মিলছে মরণনেশা ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতার সুযোগে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অপরাধী চক্র।
আড্ডার স্পট ও বর্তমান চিত্র
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, লতা ইউনিয়নে চর সন্তোষপুর সাবেক ইউপি রাব্বির মাছের ঘেরের ভিতর বাগানে ,পশ্চিম রতনপুর পঙ্কজ দেবনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পিছনের রাস্তায় উত্তর রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে সরদার বাড়ি,জোড়া ব্রিজ চিলমারি,বিদ্যানন্দপুর ৯ নং ওয়ার্ড ইটের বাটার সংলগ্ন, সহ ভাসানচর, আন্দার মানিক, আদর্শ নগর ইউনিয়ন, লতা ইউনিয়ন বিভিন্ন স্পটে নির্জন স্থানসহ অনেক প্রকাশ্য স্থানেও নিয়মিত জুয়ার আসর বসছে। এসব আসরে কয়েক লাখ টাকার লেনদেন হচ্ছে বলে জানা গেছে। জুয়ার নেশায় পড়ে অনেক নিম্নবিত্ত মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাদের পরিবারে।

অন্যদিকে, মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকাভিত্তিক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। সন্ধ্যার পর উপজেলার অলিগলিতে মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণদের একটি বড় অংশ এই মরণনেশার জালে জড়িয়ে পড়ছে।
জনমনে ক্ষোভ ও আতঙ্ক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,”আমরা এখন সন্তানদের বাইরে পাঠাতে ভয় পাই। মোড়ে মোড়ে মাদকসেবীদের আড্ডা। পুলিশকে জানালেও কাজের কাজ কিছুই হয় না। মনে হয় প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাঝে মাঝে ছোটখাটো দু-একজন মাদকসেবীকে ধরা হলেও নেপথ্যের মূল হোতারা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। স্থানীয়দের ধারণা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই এই অবৈধ কারবার চলছে।
প্রশাসনের বক্তব্য, মাদক ও জুয়ার ভয়াবহতা এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্থানীয়া থানা পুলিশ জানায়, তাদের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত চলছে। তবে জনবল সংকট এবং দুর্গম এলাকা হওয়ার সুযোগ নেয় অপরাধীরা। এ বিষয় কথা হয়। কাজিরহাট থানা অফিসার ইনচার্জ নবিউল হাসানের সাথে তিনি জানান, আমাদের মাদক অভিযান অব্যাহত আছে, এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না

