মনিরুল ইসলাম মাহিম, খাগড়াছড়ি:
জেলার পানছড়িতে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ ও বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ৩০ আগস্ট শনিবার পোনা মাছ অবমুক্তকরণ ও বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠানে পানছড়ি উজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রিয় কান্তি চাকমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা নাসরিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ডা. রাজু আহম্মেদ।
এ সময় উপজেলার বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম জলাশয়ে কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। উপকারভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পানছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, পূজগাং মুখ উচ্চ বিদ্যালয় এবং ফাতেমা নগর মেঘনা যুব কল্যাণ সংঘসহ স্থানীয় ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও যুব সংগঠনের মাঝে মোট ২০০ কেজি মাছের পোনা বিতরণ করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের পুকুর বা জলাশয়ে মাছ চাষে আগ্রহী হলেও পর্যাপ্ত পুঁজি ও পোনা সংগ্রহে সমস্যায় পড়তেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা নাসরিন বলেন, “সরকার মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে বহুমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে মৎস্য বিভাগ জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক জলাশয় সমৃদ্ধ হবে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের জীবিকা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতাও বাড়বে। আমরা চাই, এই ধরনের কার্যক্রমে সবাই অংশগ্রহণ করুক এবং জলাশয় রক্ষায় সচেতন হোক।”
বিশেষ অতিথি খাগড়াছড়ি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ডা. রাজু আহম্মেদ বলেন, পানছড়িসহ পার্বত্য অঞ্চলে মাছের উৎপাদন বাড়াতে পরিকল্পিতভাবে পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু খাদ্য উৎপাদনই নয়, বরং জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্যও বজায় থাকবে। আমাদের প্রত্যাশা, বিতরণকৃত পোনা মাছগুলো যথাযথভাবে লালন-পালন করা হবে।”
পানছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক ও ফাতেমা নগর মেঘনা যুব কল্যাণ সংঘের সভাপতি সৈয়দ এমএ বাশার বলেন,“সরকারি সহযোগিতায় এবার আমরা মাছের পোনা পেয়েছি। এখন আমাদের দায়িত্ব এই মাছগুলো বড় করে তোলে স্থানীয় বাজারে ছাড়ার, যাতে আমাদের সংগঠনের সদস্যরা উপার্জনের সুযোগ পায়।”