মোঃ মশিউর রহমান সুমন।
মেহেন্দিগঞ্জ, বরিশাল, প্রতিনিধিঃ
ভোটের পরপরই যেন তেতে উঠেছে নিত্যপন্যের বাজার। চাল ডাল আটাসহ বেশিরভাগ পন্যের দাম বেড়েছে। মাংস ও সবজির দাম তুলনামূলক বেশি। এ পরিস্থিতিতে বাজারে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতা। দাম বাড়ার জন্য চিরাচরিত নিয়মে ব্যবসায়ীরা নানা যুক্তি দাঁড় করাচ্ছেন। কেউ বলছেন উৎপাদন খরচ বেড়েছে, কারও দাবি সরবরাহ কম। আবার কেউ কেউ বলছেন, কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে প্রতিটি পন্য কয়েকটি হাতবদল হয়ে আসে। প্রতিটি স্থরের ব্যবসায়ীরা কমবেশি মুনাফা করেন। এভাবেই পন্যের দাম বেড়ে যায়।
তবে ভোক্তারা বলছেন, ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমত দাম বাড়ালেও সরকারের তদারকি নেই। ভোক্তারা যেমন জিম্মি। শুধু নিম্নবিত্ত নয়, মধ্যবিত্তরাও এখন কেনাকাটা কমাতে বাধ্য হয়েছেন।
আজ( ১৯জানুয়ারি) শুক্রবার বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাতারহাট বন্দরের কাঁচাবাজারে ১০০ টাকা কেজি দরে শিম কেনার পর সরকারি চাকরিজীবি হাবিবুর রহমান দেশ চ্যানেলকে বলেন, শীতের সময় শিমের কেজি ২৫-৩০ টাকা থাকার কথা। অথচ সেই শিম কিনতে হলো ১০০টাকায়। ফুলকপি নিলাম ৬০ টাকায়। শীত মৌসুমে সাধারণত সবজির দাম কম থাকে। এ সময় ক্রেতারা সবজি কিনেন বেশি। কিন্তু এবার উল্টো চিত্র। ভরা মৌসুমে দাম অনেক ক্রেতার নাগালের বাহিরে। পাতারহাট বন্দরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মুলা, পেঁপে ও ওলকপি (শালগম) ছাড়া ৫০ টাকায় কোন সবজি পাওয়া যাচ্ছেনা। মানভেদে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০টাকা, প্রতি পিস লাউ ৯০থকে ১০০টাকা, আকারভেদে প্রতিটি ফুলকপি জ বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ৮০থকে ৯০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুলা ও কাঁচা পেঁপের ৪৫ থেকে ৫০টাকা। বছরের বেশিরভাগ সময়ে টমেটোর দাম বেশি থাকলেও শীতের সময় কিছুটা কম থাকে। কিন্তু এখন টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৭০থেকে ৮০ টাকা দরে। ধুন্দল ও উচ্ছে বিক্রি হচ্ছে ৭০থেকে ৯০ টাকায়। অথচ এসব সবজি প্রতি কেজির উৎপাদন খরচ ১০টাকা।
কৃষি বিপনন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, প্রতি কেজি শিমের উৎপাদন খরচ ৬ টাকা ৮৮ পয়সা। এ ছাড়াও উৎপাদন ব্যয় যথাক্রমে বেগুন প্রতি কেজি ১০ টাকা ২৬ পয়সা, টমেটো ৯টাকা ৬৯ পয়সা, মুলা ৫টাকা ৫৫ পয়সা ও কাঁচা পেঁপে ৯ টাকা ৩ পয়সা। প্রতি পিস লাউ, ফুলকপি ও বাঁধাকপির উৎপাদন খরচ যথাক্রমে ১৩ টাকা ২০ পয়সা, ১০ টাকা ২৬ পয়সা ও ৯ টাকা ৯৩ পয়সা।
কৃষি বিপনন আইন অনুযায়ী, সবজিতে উৎপাদন, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে মুনাফা যথাক্রমে সর্বোচ্চ ৪০, ২৫ ও ৩০ শতাংশ করা যাবে। সেই হিসেবে এক কেজি শিম কৃষক থেকে ভোক্তার কাছে আসা পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম হতে পারে ১৫ টাকা ৬৫ পয়সা। অথচ বিক্রি হচ্ছে এর থেকে ৬ গুন বেশি দামে। অন্যান্য সবজিও উৎপাদন খরচের চেয়ে ৫ থেকে ৬ গুন বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
নির্বাচনের ২ দিন আগে থেকেই হঠাৎ বাড়তে শুরু করে চালের দাম। সরু (মিনিকেট) চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭২ টাকা। জানুয়ারির শুরুতে ছিল ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে ৪ থেকে ৭ টাকা। মাঝারি (বিআর-২৮ও পায়জাম) চাল কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৮ টাকা। দুই টাকা বেড়ে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকা কেজি দরে। চালের পাশাপাশি আটার দামও কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।

