জেলা প্রতিনিধি নড়াইল
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের নোয়াগ্রামে একই ভবনে পুরুষ ও মহিলা মাদ্রাসা করা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধের জেরে বাড়িঘর ভাংচুর, হামলা ও মামলার ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ৪০ বছর আগে ওই গ্রামে কওমী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। গত ৪/৫ বছর আগে একই এলাকায় মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পৃথক পৃথক স্থানে মাদ্রাসা হওয়ায় কোন সমস্যা ছিলো না। কিন্তু কয়েকমাস আগে পুরুষ ও মহিলা মাদ্রাসা একই দ্বিতল ভবনে আনা হয়। নীচতলায় মহিলা মাদ্রাসা ও দোতলায় পুরুষ মাদ্রাসা। এভাবে প্রতিষ্ঠান চলাকালীন সময় কয়েকটি অপ্রতিকর ঘটনা ঘটায় স্থানীয় শালিশ মাধ্যমে সমাধান হয়েছিল।
একই ভবনে পুরুষ ও মহিলা মাদ্রাসা করার বিপক্ষে ওই গ্রামের বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোঃ ওহিদুর সরদার সহ অধিকাংশ লোকজন। তাই ওই গ্রামের সরদার ও শেখ বংশের মাঝে দ্বন্দ দানাবেধে উঠে। পরবর্তীতে সরদার বংশের কিশোর মাসুম ও নুর ইসলাম ঈদের আগের রাতে ঈদের বাজার করে বাড়ি ফেরার পথে আরিফুলের বাড়ির সামনে পৌছালে পূর্বে ওত পেতে থাকা শেখ বংশের লোকজন তাদের উপর হামলা করে। মাসুম সরদারের বংশের লোকজন হামলার বিষয়টি শুনতে গেলে তাদেরকে শেখ বংশের লোকেরা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। গোপনে শেখ বংশের তাজুল ইসলাম লোহাগড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করে সরদার বংশের লোকজনের নামে। শেখ বংশের লোক শান্তির প্রস্তাব দিলে সরদার বংশ থানায় মিমাংসা হবে বলে জানায়।
সেকারনে আশরাফুল সরদার থানার সামনে পৌছালে তাকে জোর করে ধরে নিয়ে পুলিশে দেয়। পরের দিন রাতের অন্ধকারে শেখ বংশের লোকজন সরদার বংশের আশরাফুলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধন ও লুটপাট করে মালামাল নিয়ে যায়।
ওই গ্রামের ওহিদুর সরদার বলেন, রাতের আধারে বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের বিচার দাবী করছি এবং একই ভবন থেকে নারী, পুরুষের মাদ্রাসা আলাদা করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবী রাখছি।
অপরদিকে প্রতিপক্ষ শেখ বংশের প্রতিনিধি মহিলা মাদ্রাসার সুপার মোঃ তাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায় নাই।এনিয়ে ওই এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আশিকুর রহমান বলেন, তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।