লোহাগড়া প্রতিনিধি নড়াইল
নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার হিসাবরক্ষক ও কার্যসহকারী পৌরসভায় চাকরি করা অবস্থায় পিআইসি হয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একাধিক প্রকল্পের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন লোহাগড়া পৌরসভার হিসাবরক্ষক উজ্জল কুমার ও কার্যসহকারী কবির হোসেন।
স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর বিভিন্ন ধারা এবং সংশ্লিষ্ট চাকরি প্রবিধানমালা অনুযায়ী:পৌরসভার কর্মচারীদের মূল দায়িত্ব হলো পৌরসভার প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি ও বিল প্রস্তুত করা।স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest): কোনো কর্মচারী নিজেই পিআইসি প্রধান হলে তিনি নিজেই কাজ করবেন এবং নিজের কাজের বিল নিজেই প্রত্যয়ন বা পাসের সুপারিশ করবেন, যা এই আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী কোনো পৌরসভায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী পিআইসি প্রকল্পের দায়িত্ব পেতে পারেন না। তারপরও অভিযুক্ত দুইজন ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পৌরসভার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের পিআইসি হয়েছেন এবং সেখান থেকেও লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা বলেন , তারা যে প্রকল্পগুলোর পিআইসি হয়েছেন সেখানে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করেছেন। বিশেষ করে গত ৫ আগস্টে২০২৪ পর থেকে দোদন্ড প্রতাপে ওই দুই কর্মচারী অফিস কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান।
এ ঘটনায় পৌরসভার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পৌরবাসী বলেন, পৌরসভার টাকা জনগণের উন্নয়নের জন্য। অথচ কর্মচারীরাই যদি নিয়ম ভেঙে টাকা লুটপাট করে তাহলে উন্নয়ন হবে কীভাবে? দ্রুত সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এঘটনায় পৌরসভার হিসাবরক্ষক উজ্জল কুমারকে সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসা করেন ওই প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করে কি ভাবে পিআইসি হলেন, এ প্রশ্নের কোন সৎউত্তর দিতে পারেন নাই। তারপর হিসাব রক্ষক উজ্জ্বল বলেন আমি ২ টি কাজের পি আই সি হয়েছি। অপরদিকে কার্যসহকারী কবির হোসেনের মোবাইল ফোনে সাংবাদিকরা পিআইসি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন আপনারা কাল অফিসে আসুন আমি খুলনায় আছি বলে ফোন কেটে দেয়।
এ বিষয়ে লোহাগড়া পৌরসভার সচিব মোঃ তৌফিকুল আলম বলেন বিধি মোতাবেক জনপ্রতিনিধি হলে ভালো হয় তবে পৌর প্রসাশক যদি তাদের নাম দেয় আমার কি করার আছে। আপনারা খোজ নিলে সব জানতে পারবেন।তারপর ও আমি অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি।
পৌরসভার একাধিক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলে সব বেরিয়ে আসবে। সঠিক তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
পৌরবাসীর দাবী এসকল অসাধু কর্মচারীদের শাস্তির দাবী করে সাম্যের পৌরসভা গড়ার আহব্বান জানান। পিআইসির মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে উন্নয়ন কাজ হওয়ার কথা। কিন্তু কর্মচারীরা পিআইসি হলে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির সুযোগ বাড়ে। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন ও দুদকের তদন্ত জরুরি।
এলাকাবাসী আরো বলেন দ্রুত তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও আত্মসাতকৃত অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।

