বিপ্লব সরকারঃ স্টাফ রিপোর্টার,নওগাঁ
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নজিপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে এক শিক্ষককে প্রকাশ্যে মারধর ও রক্তাক্ত করার ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। আজ (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বুধবার সকাল আনুমানিক ১০টায় বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষক জোবায়ের আহমেদ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী শিক্ষকের বর্ণনা অনুযায়ী, বুধবার সকালে শিক্ষক জোবায়ের আহমেদ বিদ্যালয়ে পৌঁছে অফিস কক্ষে হাজিরা খাতায় সই করতে যান। এসময় প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম, সহকারী শিক্ষক মনিরুজ্জামান (মনির) ও সুলতান মাহমুদ হাজিরা খাতা নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। হাজিরা খাতায় সই করা নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতেই মনিরুজ্জামান ও সুলতান মাহমুদ ওই শিক্ষকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
আহত শিক্ষক জোবায়ের আহমেদ জানান, আমি সই করতে চাইলে তারা বাধা দেন এবং হাজিরা খাতা অন্য ঘরে নিয়ে যেতে চান। এক পর্যায়ে মনির ও সুলতান মিলে আমাকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারতে শুরু করে। তাদের আঘাতে আমার নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে এবং আমি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যাই। পরে সহকর্মীরা মাথায় পানি দিয়ে জ্ঞান ফেরালে আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই হামলার পেছনে প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম ও শিক্ষক আবু তাহেরের প্রত্যক্ষ উসকানি রয়েছে।
এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সচেতন নাগরিক সমাজ ও অভিভাবকরা এই ঘটনায় স্তম্ভিত। স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ে এর আগেও একাধিকবার এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের নীরবতা আজ এই চরম বিশৃঙ্খলার সুযোগ করে দিয়েছে।
বিবৃতিতে সচেতন নাগরিক সমাজ ও অভিভাবকবৃন্দ বলেন, “যে হাত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে দেবে, সেই হাত যখন সহকর্মীর রক্ত ঝরায়, তখন জাতি হিসেবে আমাদের লজ্জার শেষ থাকে না। বিদ্যালয়ের মতো পবিত্র স্থানে এমন ‘পেশিশক্তির মহড়া’ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
অনতিবিলম্বে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করা। বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ।
“শিক্ষক যখন পথ হারান, জাতি তখন দিক হারায়”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবকরা।

