মোঃ আশরাফুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার.
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই দেশজুড়ে একাধিক খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি আলোচিত ঘটনায় দ্রুত গ্রেপ্তার হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামগ্রিক উন্নতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
গত দুই সপ্তাহে নরসিংদী, পাবনা, রাজবাড়ী ও খুলনায় পৃথক ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে একাধিক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা, দাদি-নাতনির দ্বৈত হত্যা, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং শিশুধর্ষণের ঘটনা।
পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র জানায়, “অপরাধগুলো বিচ্ছিন্ন হলেও সামাজিক অস্থিরতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের প্রভাব স্পষ্ট।” সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে এবং ডিএনএ পরীক্ষা ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, “অপরাধী যেই হোক, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে।”
অন্যদিকে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোকে সক্রিয় রাখা হয়েছে এবং মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ নজরদারি চালু হয়েছে।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, গ্রেপ্তারই শেষ কথা নয়; দ্রুত ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত না হলে অপরাধ প্রবণতা কমবে না। তারা সাক্ষী সুরক্ষা, ভিকটিম কাউন্সেলিং ও পুলিশি জবাবদিহিতা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধ কমে যাবে- এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং কমিউনিটি পুলিশিং শক্তিশালী করা।
আর জনগণের প্রত্যাশা- দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও দৃশ্যমান আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এখনই দৃঢ় পদক্ষেপ প্রয়োজন। দেশে সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু অপরাধচিত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি- এ বাস্তবতা অস্বীকার করার উপায় নেই। সাম্প্রতিক খুন ও ধর্ষণের ঘটনাগুলো শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়; এটি সামাজিক নিরাপত্তা, নৈতিকতা ও বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতার প্রশ্ন।
অপরাধ দমনে সরকারের কঠোর বক্তব্য ইতিবাচক; তবে জনগণ এখন ফলাফল দেখতে চায়। বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, সাক্ষী নিরাপত্তাহীনতা এবং মামলার জট- এসব সমস্যার সমাধান ছাড়া কেবল বিবৃতি দিয়ে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।
এজন্য প্রয়োজন দ্রুত তদন্ত ও চার্জশিট,বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সময়সীমা নির্ধারণ,ভিকটিম সাপোর্ট সেল শক্তিশালী করা, সামাজিক সচেতনতা ও পরিবারভিত্তিক মূল্যবোধ চর্চা, যা নতুন সরকারের সামনে একটি বড় পরীক্ষা। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়- এটি রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। জনগণ এখন প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চায়।

