মাধবপুর হবিগঞ্জ প্রতিনিধি,,
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা-এ যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত তিনজনকে চিকিৎসার জন্য মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পশ্চিম আন্দিউড়া গ্রামের বাসিন্দা মোছা. হালিমা বেগম থানায় একটি এজাহার দাখিল করেছেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, তার মেয়ে লিনা আক্তারের সঙ্গে ২০২৪ সালের ২৪ মে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী মাধবপুর পৌরসভার পশ্চিম মাধবপুর এলাকার মনিরুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও আসবাবপত্রসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার উপহার দেওয়া হয়।

এজাহারে বলা হয়, বিয়ের পর থেকে স্বামী মনিরুল ইসলাম, দেবর তুষার মিয়া, শ্বশুর জহিরুল ইসলাম ও শাশুড়ি অনুফা বেগম মিলে লিনা আক্তারের কাছে তার বাবার বাড়ি থেকে আরও ৫ লাখ টাকা যৌতুক আনার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এ নিয়ে প্রায়ই তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।
গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে হালিমা বেগম ও তার আত্মীয় শাহানা আক্তার বিথি মেয়ের খোঁজ নিতে মনিরুল ইসলামের বাড়িতে যান। এ সময় আসামিরা আবারও ৫ লাখ টাকা দাবি করলে লিনা আক্তার তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী মনিরুল ইসলাম তাকে মারধর করেন এবং বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মেয়েকে রক্ষা করতে গেলে হালিমা বেগমকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। এ সময় তার গলা থেকে প্রায় ১২ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একইভাবে শাহানা আক্তার বিথিকেও মারধর করে তার স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
পরে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হলেও ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেননি। খবর পেয়ে মাধবপুর থানা-এর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
আহতরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মাধবপুর থানা-এর এক কর্মকর্তা জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

