বিপ্লব সাহা, খুলনা ব্যুরো:
একদিকে যেমন দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো বিএনপির নামে কুৎসা লটাতে আলোচনা সমালোচনায় সরগম আর ঠিক একই সময় নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে দলীয় অন্তর কোন্দোল তেমন বেড়েই চলেছে দলীয়ভাবে বিভক্তি সৃষ্টি করে ভোট দুর্গে আঘাত হানার চেষ্টা করছে ফলে ভোটের মাঠে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে।
একপর্যায়ে দলীয় কোন্দোলের বিষয় নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্য থেকে এমন অভিযোগ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।
যদিও ইতিমধ্য দেশের ৩০০ আসনেই বিএনপি কোন শরিকদল ছাড়াই একপ্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে এলাকায় পরিচিতির পর্ব শেষ করলেও যন্ত্রণার বিষফোঁড়ার রূপ নিয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থীরা,
এক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন ঘরের শত্রু বিভীষণ হলে সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে আর এই মুহূর্তে যদি দলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও চেয়ারপারসন বিষয়টি অতি গুরুত্বের সাথে হস্তক্ষেপ করে অতি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা না করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের জানমাল এর ক্ষতি হবে।
আর এসব কারণেই আলোচিত বৃহৎ একটি দলের সুবিধার জায়গাটা প্রসার হবে।
এদিকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সমাজসেবক ও সাধারণ জনগণ বলছে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর বাকি মাত্র একমাস। মনোনয়নের আপিল নিষ্পত্তির পর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনও ঘনিয়ে আসছে। কিন্তু কিছু কিছু আসন নিয়ে বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল যেন স্বস্তির অবস্থানে আসতেই পারছে না। যদিও এই অস্বস্তির কারণ দলের মনোনয়ন বঞ্চিতদের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে যাওয়া। আর এরাই এখন বিএনপির মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেসব আসনে দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে মনোনয়ন বঞ্চিতরা প্রার্থী হয়েছেন সেখানে দলীয় প্রার্থীরা যেমন উদ্বেগের মধ্যে আছেন, তেমনি হাই কমান্ডও চিন্তিত। দলের বিদ্রোহীরা যদি প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করে তাহলে মনোনীত প্রার্থীদের বিজয় ছিনিয়ে আনা কঠিন হবে। বিদ্রোহীদের কারণে কোথাও কোথা অন্য দলের প্রার্থীরা জয়লাভ করবেন; আবার কোথাও বিদ্রোহীরাও বিজয়ী হতে পারেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারাদেশে প্রায় শতাধিক আসনে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন বিএনপি নেতারা। দলীয় নেতারা বলছেন, বিদ্রোহীরা জয়লাভ করলে দলের ক্ষতি হবে না। কারণ, তারা পরে আবার দলেই যোগ দেবেন। কিন্তু নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে অন্য দল বা জোটের প্রার্থীরা জয়লাভ করলে সেটা দলের জন্য ক্ষতির কারণ হবে। এই চিন্তা থেকেই দলের হাইকমান্ড চাচ্ছে মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে যাতে কেউ মাঠে না থাকে এবং থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে মহাসচিবসহ উদ্ধাতন কর্তারা
দলীয় কর্তারা সুস্পষ্টভাবে আরও জানায়, যাচাই-বাছাই শেষে এখনো যেসব জায়গায় বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন প্রথম ধাপে সেসব প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহারে রাজি করানোর চেষ্টা করা হবে। কেন্দ্রীয় নেতারা সরাসরি বৈঠক ও সাংগঠনিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে তাদের বোঝানোর উদ্যোগ নেবেন। তবে কেউ যদি দলীয় সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকৃতি জানান, সেক্ষেত্রে কঠোর থেকে কঠোরতম এমনকি দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
জানা গেছে, এখনো যেসব জায়গায় বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন তারা অনেকটা শক্ত অবস্থানেই আছেন। অনেকের ধারণা, দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তার চেয়ে তিনি জনপ্রিয় প্রার্থী এবং বিজয়ী হবেন। সেজন্য তারা মাঠ ছাড়তে চাচ্ছেন না।ফলে আলোচিত অন্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোটারদের দরজায় দরজায় গিয়ে নিজেদের সমাজসেবার যোগ্য প্রার্থী হিসেবে জাহিল করছে আর এতে করে খানিকটা বিএনপি’র জোয়ার থেকে ভাটির টানে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

