জেলা প্রতিনিধি : নড়াইল
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার আর,কে,কে জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীর শ্লীলতাহানির ঘটনার বিচার চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও ক্লাস বর্জন করেছে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
উদ্ভূত পরিস্থিতির পর রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসির উপস্থিতিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচারের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে ক্লাসে ফিরে গেছে। এ ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে , উপজেলার আরকেকে জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী (১৫) একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো: বাবু মিয়ার বাড়িতে প্রাইভেট পড়তো। প্রায় দু’সপ্তাহ পূর্বে অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়িতে প্রাইভেট পড়া শেষে অভিযুক্ত শিক্ষক মো: বাবু মিয়া কৌশলে ওই শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সৃষ্ট ঘটনা তার অভিভাবককে অবহিত করে।
অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ বাবু মিয়ার সাথে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায় নাই।এমনকি তার ব্যাবহারিত ফোন নং ০১৮৮২৫৮১৬৫৫ বন্ধ পাওয়া যায়।
এঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া সাথে কথা হলে তিনি বলেন ঘটনা শুনেছি বিদ্যালয়ের সভাপতির সাথে কথা বলে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানির ঘটনা এলাকায় চাউর হয়ে পড়লে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচারের দাবীতে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০ টার দিকে ওই বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন কর্মসূচির ডাক দেয়। পরে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে এলাকাবাসীও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচারের দাবিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ মিছিল করে।
খবর পেয়ে লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী কায়সার ও লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহমান ঘটনাস্থল রায়গ্রামে পৌঁছে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন এবং বিচারের আশ্বাস দিলে তারা পুনরায় ক্লাসে যোগদান করে।
পরবর্তীতে লোহাগড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার শাম্মী কায়সারের নির্দেশে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: আনোয়ার হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
গঠিত তদন্ত কমিটি আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন বলে জানিয়েছেন লোহাগড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আনোয়ার হোসেন।

