মোঃ আমিরুল ইসলাম , পঞ্চগড় জেল প্রতিনিধি।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গত ২১ ফেব্রুয়ারি সারাদেশের ন্যায় পঞ্চগড়েও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে এদিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার বিধান কার্যকর থাকে।
তবে এর পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড় জেলা নির্বাহী গণপূর্ত কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা পুনরায় অর্ধনমিত অবস্থায় দেখা গেলে স্থানীয় মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সচেতন নাগরিকদের মতে, নির্ধারিত দিবস ব্যতীত জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা কেবল প্রশাসনিক শৈথিল্যই নয়, বরং জাতীয় প্রতীকের প্রতি অবহেলার সামিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকার ঘোষিত বিশেষ শোক দিবস ছাড়া অন্য কোনো দিনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার বিধান নেই। ২১ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরদিন পতাকা পূর্ণ মর্যাদায় উত্তোলন করা বাধ্যতামূলক। সেই প্রেক্ষাপটে ২২ ফেব্রুয়ারি পতাকা অর্ধনমিত অবস্থায় থাকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দেয় এটি কি দায়িত্বে অবহেলা, নাকি নিয়ম সম্পর্কে অসচেতনতা?
এ বিষয়ে জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, পতাকাটি ইচ্ছাকৃতভাবে অর্ধনমিত রাখা হয়নি। আমাদের পতাকা স্ট্যান্ডে যেখানে পতাকা আটকে রাখা হয়, সেটি প্রায় চার ইঞ্চি নিচে অবস্থান করছিল। বিষয়টি আগে আমার নজরে আসেনি। এইমাত্র চোখে পড়েছে। সঙ্গে সঙ্গে পতাকা নামিয়ে সঠিকভাবে পূর্ণ উচ্চতায় উত্তোলনের জন্য নির্দেশ দিয়েছি।
তবে সচেতন মহলের দাবি, জাতীয় পতাকার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে ‘চোখে না পড়া’ ধরনের ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তারা বলেন, জাতীয় পতাকা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও লাখো শহীদের আত্মত্যাগের প্রতীক। এ প্রতীকের সঠিক ব্যবহার ও প্রটোকল মেনে চলা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আরও সতর্ক ও জবাবদিহিমূলক আচরণ প্রত্যাশা করেন তারা।
স্থানীয়রা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে যাতে না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিয়মিত তদারকি ও দায়িত্ব নির্ধারণ প্রয়োজন। জাতীয় প্রতীকের ক্ষেত্রে সামান্য অসাবধানতাও বড় প্রশ্নের জন্ম দেয় এ কথা মাথায় রেখেই প্রশাসনের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন।

