লাখাই উপজেলা প্রতিনিধি
ঢাকার বনশ্রীতে দশম শ্রেনীতে পড়ুয়া ফাতেমা আক্তার লিলি (১৭) কে হত্যার দায়ে হোটেল কর্মী মিলনকে আটক করেছে র্যাব।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে র্যাব সদর দপ্তরের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। র্যাবের বার্তায় বলা হয়, দক্ষিণ বনশ্রীর নিজ বাসায় খুন হওয়া স্কুলছাত্রীকে হত্যা মামলায় হোটেল কর্মী মিলন র্যাবের জালে আটক।
তবে মিলনকে কোন এলাকা থেকে কখন আটক করা হয়েছে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানায় নি র্যাব।
আলোচিত ফাতেমা আক্তার লিলি হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করেছেন গ্রেফতারৃত হোটেল কর্মী মিলন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি দেয়ার পাশাপাশি ওই তরুণীকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
মিলনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত মিলনের সঙ্গে নিহত স্কুলছাত্রী লিলির সু-সম্পর্ক ছিল। তবে এই সম্পর্কের সুবাদে সে বিভিন্ন সময় আকার-ইঙ্গিতে লিলির কাছে প্রেমের বহিঃপ্রকাশ করতো এবং লিলির বাবা-মা গ্রামের বাড়ীতে গেলে মিলন লিলিকে নিয়ে পালিয়ে যাবে বলে তাকে জানায়।
পরবর্তীতে সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে বাসায় একা পেয়ে মিলন লিলিকে তার সঙ্গে পালিয়ে যেতে প্রস্তাব দেয়। কিন্তু সেই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে লিলি তাকে জানায়, রেস্তোরাঁ মালিকের মেয়ে হয়ে সে কর্মচারীর সঙ্গে যাবে না। সেই সঙ্গে লিলি মিলনকে ‘বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াতে’ নিষেধ করে।
একপর্যায়ে নিজের এমন অনৈতিক প্রস্তাবে সহযোগিতা না করার কারণে মিলন এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। তবে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ ও বিস্তর তদন্তে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে বলেও জানিয়েছেন র্যাব।
উল্লেখ্য যে গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীর এল-ব্লকের প্রীতম ভিলা নামের একটি ভবন থেকে ফাতেমা আক্তার লিলির গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। মেয়েটি রাজধানীর একটি স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ফাতেমা আক্তার লিলি হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার বামৈ গ্রামের সজিব মিয়ার মেয়ে। সে মা-বাবা ও বোনের সঙ্গে ওই বাসায় থাকত।
ঘটনাস্থলে থাকা খিলগাঁও থানা-পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় লিলির মা-বাবা গ্রামের বাড়ীতে গিয়েছিলেন এবং বোন জিমে ছিলেন। লিলি বাসায় একাই ছিল।

