মেহেন্দিগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার নয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৮ শিক্ষক ও ৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার আসামি হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ শেখ ফারুক হোসেন। জাতীয়করণ করা কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দূর্নীতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারী,২০২৬) তাদের বিরুদ্ধে এই গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি হয়েছে। পরোয়ানা প্রাপ্তরা হলেন, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সাবেক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পুতুল রানী মন্ডল, আক্তারুজ্জামান মিলন, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান, সাবেক এমপি পংকজ নাথের ভাইয়ের স্ত্রী কল্যানী দেবনাথ,শিক্ষক গোলাপী রানী,সাবনিন জাহান, সুরাইয়া সুলতানা, সুবর্ণা আক্তার,কাওসার হোসেন, মোঃ মনিরুজ্জামান, ফাতেমাতুজ্জোহরা, রোকসানা খানম,শহিদুল ইসলাম, রেশমা আক্তার,রহিমা খাতুন,আকতার হোসেন খোকন, নাসরিন, মনির হোসেন, রেহেনা পারভিন, আহসান হাবীব ও শামসুন্নাহার। মামলার বরাতে বেঞ্চ সহকারী জানান, জাতীয়করণের ক্ষেত্রে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে নিয়োগ দেখিয়ে এক কোটি ১৫ লাখ ২৯ হাজার ৩১৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। এই ঘটনায় ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেন দুদক বরিশাল কার্যালয়ের তৎকালীন সহকারী পরিচালক ও বর্তমান কেন্দ্রীয় দপ্তরের উপ-পরিচালক হাফিজুর রহমান। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর ২১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক রাজ কুমার সাহা। উল্লেখ্য, বিগত ২০১৩ সালে সারাদেশের রেজিস্টার ও কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সরকারি করার ঘোষনার পর তৎকালিন এমপি পংকজ নাথের নির্দেশে তার কর্মী, তাদের স্ত্রী, সন্তান,ভাই,বোনদের ৯ টি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৮ শিক্ষকের শূন্যপদ দেখিয়ে জনপ্রতি ৫ থেকে ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে ভূয়া রেকর্ডপত্র তৈরি করে নিয়োগ দেন।
যাদের কে ২০০৯ সাল থেকে নিয়মিত শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেখিয়ে তাদেরকে জাতীয়করণের আওতায় আনার জন্য শিক্ষা অধিদপ্তরে পংকজ নাথের ডিউ লেটারসহ এই ভূয়া শিক্ষকদের লিস্ট প্রেরন করে তৎকালীন শিক্ষা কর্মকর্তা পুতুল রানী মন্ডল। এই গায়েবি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ ২০১৭ সালে সরকারি আওতাভুক্ত হন এবং এককালিন সরকারি কোষাগার থেকে জনপ্রতি ৫ লাখ টাকার উপরে এরিয়া বিল উত্তোলন করেন। এদের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০০৯ সালে এদের অনেকের বয়স ছিলো ১৬ বছর কয়েক মাস, আবার অনেকের বয়স ছিলো ৩০ বছরের উপরে। এছাড়া এদের বেশ কয়েকজন একই সাথে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত আনন্দ স্কুল ও ন্যাশনাল সার্ভিসেও চাকুরি করেছে। যা সরাসরি শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালার গুরুতর লঙ্ঘন বলে জানান একাধিক শিক্ষাবিদ।

