বিপ্লব সাহা খুলনা ব্যুরো:
দেশে জুড়ে বিরাজমান নির্বাচনী উৎসব মুখর পরিবেশে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একেবারেই সন্নিকটে আর ঠিক ততটাই বেশি উগ্র রূপ ধারণ করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ফলে ভোটের আগে অধিক সহিংসতায় পাল্টে যেতে পারে ভোটারদের উপস্থিতির দৃশ্য এমনটাই মনে করছে দেশের বিশিষ্টজনরা।
কারণ নির্বাচনের ডামাডোল বাজিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো প্রচার-প্রচারণায় নেমে জড়িয়ে পড়ছে দাঙ্গা হাঙ্গামা লেগেই রয়েছে ৬৪ জেলায়।
কোথাও খুন হচ্ছে কোথাও গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে অসংখ্য কর্মীগণ, বিশেষ করে তফসিল ঘোষণার পর থেকে আজকের দিন পর্যন্ত দেশজুড়ে প্রায় অর্ধশতাধিক নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় নিয়োজিত কর্মী ও সাধারণ জনগণের জীবনে অবসান ঘটেছে ফলে এক অগ্নিকুণ্ড চাপা বিস্ফোরণের বিরাজ করছে দেশ।
অথচ দেশ জুড়ে যৌথ বাহিনীর চিরুনি অভিযান অব্যাহত রেখে অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের লাগাম টানতে অনেকটাই ব্যর্থ হচ্ছে।
আর এরই কারণে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহ বিভিন্ন মহল পড়েছে দুশ্চিন্তায়, কোন পথে এগোচ্ছে নির্বাচনে সমীকরণ তা নিয়েও তাদের আলোচনা সমালোচনার শেষ নাই।
নাই কোনো দলের মধ্যেই নম্রতা।
মানছে না নির্বাচন কমিশনারের আচরণবিধি, উশৃঙ্খল আর মারমুখি পরিবেশ যেন সর্বদা দৃশ্যমান।
যার কারণে ১২ তারিখের অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি নিয়েই সংশয়।
এ বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেছেন যদিও দেশে দীর্ঘ ১৭ বছর সুষ্ঠু ও অবাধ কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় নাই বিধায় ভোটারদের মাঝে উৎসব আমেজ লক্ষ্য করা যায়নি, তবে এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সর্বদলের অংশগ্রহণে দেশ তথা সমগ্র বহির্বিশ্বের নিকট গ্রহণযোগ্য হওয়াটাই আশা আকাঙ্ক্ষা ছিল, কিন্তু দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তথা রাজনৈতিক দলগুলোর নৈতিক অবক্ষয় দেখে সবকিছুই যেন পাল্টে যেতে বসেছে, প্রতিনিয়ত আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে ভোটারসহ সাধারণ জনগণের মাঝে। ভোটারদের মন জয় করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের বদনাম করছে।
বিশেষ করে গত ২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকার দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতা কর্মীদের মাঠ পর্যায়ের অপকর্ম চাঁদাবাজি ও নৃসংস ঘটনাগুলি স্পষ্ট করে বারবার জনসন্মুখে তুলে ধরে এক পক্ষ মনে করিয়ে দিচ্ছে ভোটারদের।
আর এক্ষেত্রে মুখিয়ে রয়েছে জামায়াত ইসলামের সঙ্গে জোট অন্তর্ভুক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও হাসিনা পতনের জুলাই যোদ্ধাদের গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির নেতাকর্মীগণ তারা ফলোয়া করে বলছে বিগত আমলের বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন খাম্বা মামুন সহ তারেক রহমানের অপকর্ম দুর্নীতি চাঁদাবাজি ও বিদেশে অর্থপাচার এর ঘটনার প্রবাহমান অসংখ্য বাস্তবিক তথ্য।
তারপর আবার একই সাথে গণভোটে হাঁ এবং না দুটি শব্দবিন্যাসে জুলাই অভ্যুত্থানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করার লক্ষ্যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে সে ক্ষেত্রেও তারেক রহমান দেশ জুড়ে বিশাল বিশাল নির্বাচনী জনসমাবেশ করলেও কোন মঞ্চে দাঁড়িয়ে হাঁ ভোট দেওয়ার পক্ষে জনগণকে বুঝিয়ে কোন কথা বলেনি এবং ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারকে পতনের ক্ষেত্রে ও আয়েসি রাজার দুলাল তারেক রহমান লন্ডনে থেকে সবকিছু উপলব্ধি করতে পেরেও বলিষ্ঠ কোন ভূমিকায় সে অনেকটাই গা ছাড়া ভাবছিল।
এদিকে আওয়ামী লীগের পতনের পর ১৭ বছরের নির্যাতিত বাঙালি যখন উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছিল রাজপথে আর ঠিক তখন তারেক বাহিনীর লোকজন দেশের লুটেরা হয়ে উঠেছিল, ভূমি দখল করেছিল, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছিল, মন্দির এবং হিন্দু সংখ্যালঘুর মানুষদের উপরে নির্যাতন শুরু করে চাঁদাবাজি উপার্জন করে তারেক রহমানকে বিদেশে পাচার করেছিল আর সেই অর্থ নিয়ে তারেক রহমান সমগ্র বাংলাদেশে এখন নির্বাচনী জনসমাবেশ করে বেড়াচ্ছে যা সাধারণ মানুষের বুঝতে একটুও বাকি নাই।
পাশাপাশি একই সাথে বিএনপি জামায়েত ইসলামকে উদ্দেশ্য করে বলছে ওরা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি ওরা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন ১৯৭১ সালে রাজাকারদের সাথে আঁতাত করে দেশের নারী সম্ভ্রম হয়নি করেছিল মুক্তিযোদ্ধাদের বিপক্ষে অবস্থান করেছিল বর্তমানেও প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে স্বাধীনতা বিপথগামী শক্তি পাকিস্তানের সাথে আঁতাত করে চলেছে এবং ইসলাম ধর্মকে কুক্ষিগত করে ধর্ম ব্যবসার নামে নোংরা রাজনীতিতে মেতে উঠেছে লেবাসধারী এই মানুষগুলো শঙ্কাগরিষ্ঠ ইসলাম ধর্মের মানুষদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে দ্বিধাবোধ করছে না।
অপরদিকে সাধারণ মানুষের থেকে অভিযোগ এসেছে আওয়ামী লীগ যদিও নিষিদ্ধ দল হিসেবে বিবেচিত হয় তবুও তাদের একটা বৃহত্তর অংশ ভোটার রয়েছে দেশে আর এই সংখ্যক ভোটার যদি নীরব ভূমিকায় অবস্থান নেয় তাহলে হয়তো বা নির্বাচনী চিত্রপট একটু ব্যতিক্রমও হতে পারে। সবকিছু মিলে নির্বাচনী অবস্থান দোদুল্যমান ও সহিংস অবস্থায় এগোচ্ছে প্রতিনিয়ত ফলে ভোটার ও সাধারণ জনগণের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক এতে করে ভোটার উপস্থিতির সংখ্যাটা মুখ্য বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

