আব্দুল্লাহ আল মামুন পিন্টু,টাঙ্গাইলঃ
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের স্রোত বাড়লেও যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে দেখা গেছে এক ভিন্ন চিত্র। প্রতিবছর এই মহাসড়কে যে দীর্ঘ যানজট ও জনভোগান্তি নিত্যসঙ্গী ছিল, এবার তা যেনো ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৯৮ সালে যমুনাসেতু চালু হওয়ার পর থেকে গত ২৮ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম ঘরমুখো মানুষ কোনো প্রকার যানজট ছাড়াই নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারছেন। বুধবার(১৮ মার্চ) টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহাসড়ক পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

জানাগেছে, এবারের ঈদযাত্রায় স্বস্তির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে দীর্ঘ সরকারি ছুটি। ঈদ অনুষ্ঠানের অনেক আগেই ছুটি শুরু হওয়ায় এবং ধাপে ধাপে মানুষ রাজধানী তথা কর্মস্থল ছাড়ার সুযোগ পাওয়ায় মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়নি। ফলে উত্তরাঞ্চলের ২৪টি জেলার যাত্রীরা কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই যমুনাসেতু পার হতে পারছেন। যদিও যানবাহনের জ্বালানি তেলের কিছুটা সংকট লক্ষ্য করা গেছে এবং ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। তবে ঈদযাত্রার মূল প্রবাহে এর তেমন কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। এছাড়া, মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশে ছয় লেনের কাজ চলমান থাকলেও পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু থেকে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৪ হাজার ৬৫০ টাকা টোল আদায় করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ এবং এর বিপরীত ৪৬ হাজার ৯৬৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার(১৭ মার্চ) রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ হাজার ৯৬৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাগামী ১৯ হাজার ৪৪৫টি যানবাহন পারাপারের বেপরীতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৬৬ লাখ ৪ হাজার ৮০০ টাকা। উত্তরবঙ্গগামী ২৭ হাজার ৪৯৮টি যানবাহন পারাপারের বিপরীতে টোল আদায় ১ কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৫০ টাকা।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও এখনো কোনো যানজট সৃষ্টি হয়নি। দ্রুততম সময়ে টোল আদায়ে সেতুর দুই পাশে মোট ১৮টি টোল বুথ সচল রাখা হয়েছে। এরমধ্যে মোটরসাইকেল বা বাইকের জন্য আলাদা লেন রয়েছে। সেতুর দুই প্রান্তে যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বুধবার(১৮ মার্চ) মহাসড়ক পরিদর্শন করে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান, ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এর ফলে সড়কের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বড় ধরনের কোনো ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি। এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হচ্ছে।
এদিকে, নৌ-পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) গভীর রাতে যমুনা সেতুর পূর্ব টোল প্লাজা পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সড়কে কোথাও উল্লেখযোগ্য যানজটের সৃষ্টি হয়নি। যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছিল- তা বাস্তবে প্রতিফলিত হয়েছে। যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি তদারকিতে রাখা হয়েছে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতও সক্রিয় রয়েছে।
এ সময় টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ রেজওয়ান ও ফোজিয়া রহমান, বিবিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন, কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুল ইসলামসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

