নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইলের লোহাগড়ায় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় থেকে দুটি কথিত প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি চালের (জিআর) অনুদান নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক এশিয়ান টিভির লোহাগড়া প্রতিনিধি সাংবাদিক কাজী আশরাফের বিরুদ্ধে।
অভিযোগকে ঘিরে এলাকাজুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অস্তিত্ব, কার্যক্রম ও বৈধতা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জিআর (গ্র্যাচুইটাস রিলিফ) কর্মসূচির আওতায় নড়াইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ‘আলোকিত ট্রিবিউন এবং সাংবাদিক কল্যাণ সংস্থা নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৫০০ কেজি করে মোট ১ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে এই নামে লোহাগড়ায় কোন প্রতিষ্ঠান নাই,তবে এই ভুষা প্রতিষ্ঠান দুটির কর্তা হলো সাংবাদিক কাজী আশরাফ নিজেই। এছাড়া বরাদ্দ বাস্তবায়নের জন্য পিআইসি (PIC) হিসেবে সাবু খান ও গোলাম মোস্তফার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘আলোকিত ট্রিবিউন’ ও ‘সাংবাদিক কল্যাণ সংস্থা’ নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান কার্যালয়, নিবন্ধন, সাংগঠনিক কার্যক্রম কিংবা জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ সম্পর্কে তারা অবগত নন। প্রতিষ্ঠান দুটি বাস্তবে কোথায় পরিচালিত হয়, কারা এর সদস্য এবং কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে—এসব বিষয় নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, যথাযথ যাচাই-বাছাই করে সঠিক প্রতিষ্ঠানে অনুদান প্রদানের জন্য আহব্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ প্রতি। ইতিপূর্বে এ রকম ভুয়া প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে বরাদ্দ নিয়েছে একটি অসাধু চক্র। পাশাপাশি বরাদ্দকৃত চাল যথাযথভাবে বিতরণ বা ব্যবহার হয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এছাড়া আরও জানাগেছে কাজী আশরাফ অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। তবে সুত্রে জানাগেছে তিনি আওয়ামীলীগের একনিষ্ঠ কর্মী।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নড়াইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখায় একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি।
অপরদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাংবাদিক কাজী আশরাফের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করে কেটে দেন। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

