মনিরুল ইসলাম মাহিম, খাগড়াছড়ি:
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী খাগড়াছড়ি জোনের উদ্যোগে পার্বত্যাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করেছে। চোখে ছানি অপারেশনের জন্য নির্বাচিত রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় আজ ১৪ সেপ্টেম্বর বুধবার প্রথম ধাপে ছানি অপারেশনের জন্য নির্বাচিত ৮৪ জন রোগীকে খাগড়াছড়ি থেকে চট্টগ্রাম লায়ন্স হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পানছড়ি উপজেলা মডেল মসজিদ কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী খাগড়াছড়ি জোনের উদ্যোগে একটি বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়। প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত চক্ষু চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এ ক্যাম্পে চট্টগ্রাম লায়ন্স হাসপাতাল থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অংশগ্রহণ করেন। ক্যাম্পে আগত রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ছানি অপারেশনের প্রয়োজন রয়েছে এমন মোট ১৫৫ জন রোগীকে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে এসব রোগীকে চট্টগ্রাম লায়ন্স হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আজ প্রথম ধাপে ৮৪ জন রোগীকে চট্টগ্রামে প্রেরণ করা হয়।
প্রথম ধাপে প্রেরিত ৮৪ জন রোগীর মধ্যে ৪৬ জন পাহাড়ি এবং ৩৮ জন বাঙালি জনগোষ্ঠীর সদস্য। তাদের মধ্যে ৩৪ জন পুরুষ ও ৫০ জন নারী রয়েছেন। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে পার্বত্য এলাকার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও আস্থার পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।
চট্টগ্রাম লায়ন্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রেরিত রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করার পর চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ছানি অপারেশনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করবেন। অপারেশন ও চিকিৎসা কার্যক্রম শেষে রোগীদের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় নিরাপদে পুনরায় খাগড়াছড়িতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে চট্টগ্রামে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের যাতায়াত ও অন্যান্য বিষয়ে বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হবে না।
সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে পার্বত্য এলাকার সাধারণ মানুষ অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। চিকিৎসাসেবা, বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ, চক্ষু চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সামাজিক সহায়তার মাধ্যমে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সেনাবাহিনীর এ ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মনে করে, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া শুধু একটি চিকিৎসা কার্যক্রম নয়; বরং এটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও পার্বত্য চট্টগ্রামের পিছিয়ে পড়া পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

