লাখাই উপজেলা প্রতিনিধি
হবিগঞ্জে হঠাৎ করেই তাপমাত্রা নেমে যাওয়ায় শীতের তীব্রতায় কাবু হয়ে পড়েছে মানুষ। কনকনে ঠান্ডা বাতাস, ঘন কুয়াশা ও দিনের বেলায় সূর্যের মুখ না দেখায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধা ও নিম্নআয়ের মানুষেরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত রোগীর চাপে হবিগঞ্জ জেলার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে অস্বাভাবিক ভিড়। অনেক হাসপাতালে শয্যা সঙ্কট দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের।
শীতের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে সর্দি, কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ডায়রিয়া ও ঠান্ডাজনিত নানা রোগ। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে এসব রোগের প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে।
শীতজনিত রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। অনেক হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা সীমিত হওয়ায় রোগীদের মেঝেতে বা অতিরিক্ত বেডে রাখতে হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্সদের ওপরও কাজের চাপ বেড়েছে বহুগুণ।
চিকিৎসকরা বলছেন, প্রতিদিন যে পরিমাণ রোগী আসছে, তা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। শীতজনিত নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের রোগী বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের অবস্থা গুরুতর হয়ে আসছে। শিশু ও বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় শীতের সময় তারা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নবজাতক ও পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। অপরদিকে, ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা বেড়ে যায়।

