মোঃ আমিরুল ইসলাম পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি।
উঠল সুর উচ্ছুসি ফাগুনের বাতাসে। নতুন রঙে সেজেছে বসন্তের প্রকৃতি। অজস্র পলাশ, শিমুল, কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভায় রঞ্জিত প্রকৃতি। প্রকৃতির সেই রূপের সঙ্গে নিজেদের রাঙিয়ে নিতে নানান আয়োজনে পালিত হয় বসন্ত বরণ। পহেলা ফাগুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস একই দিনে হওয়ায় আনন্দ নিয়েছে ভিন্নতর রূপ। তরুণ তরুণীরা সাজগোজ করে হলুদ ও বাসন্তী রঙের শাড়ি পাঞ্জাবি পড়ে বসন্তকে বরণ করতে ভালোবাসাময় দিনে ঘুরে বেরিয়েছেন। নারীদের কেউ কেউ মাথায় পড়েছিলেন ভিন্ন রঙের ফুল। বাদ যায়নি শিশু কিশোর ও বৃদ্ধরা। তারাও বর্ণিল পোশাকে সজ্জিত হয়ে বরণ করে বসন্তকে।

গানে গল্পে আবৃত্তিতে ও আড্ডায় মেতে উঠছিলেন। পহেলা ফাল্গুন। ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। ফাল্গুন ও চৈত্র মাস নিয়ে বসন্তকাল। ফাল্গুন মাস ফাল্গন নামেও অভিহিত। বসন্তের আগমনে আনন্দের রং লেগেছে বাঙালির মনে, দক্ষিণা হাওয়ায় প্রাণবন্ত প্রকৃতি। গাছের ডালায় শোভা পাচ্ছে নতুন পাতা। বাগানে ফুটেছে বাহারি রঙের ফুল। সব মিলিয়ে প্রকৃতির সর্বত্র উৎসবের আমেজ। মানব মনেও লেগেছে দোলা। ভাষা, সুর, ছন্দ বলে বসন্ত এসে গেছে। একই সঙ্গে এদিনে ভালোবাসা দিবসও। ১৪ ই ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উদযাপিত হয়। দুটি উৎসব একই দিনে হওয়ায় আনন্দ উদযাপনও যেন দ্বিগুণ হয়েছে। পঞ্চগড়বাসীসহ সবাই মেতেছে বসন্ত ভালোবাসার উদ্দীপনায়। এদিন কেউ বন্ধু-বান্ধবীর সঙ্গে, কেউবা প্রিয় মানুষটির সঙ্গে কেউবা পরিবারের সঙ্গে উৎসবে মেতে উঠেছেন। সবাই একে অপরের সঙ্গে বিনিময় করেন বসন্তের ও ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা। সেই সঙ্গে সেলফি তো আছেই। সব মিলিয়ে হয়ে ওঠে উৎসবমুখর পরিবেশ। ভালোবাসা বিশেষ এই দিনে নানা আয়োজনে উদযাপিত হয় পহেলা ফাল্গুন বা বসন্ত বরণ। বসন্তের এই প্রথম দিনটিকে বরণ করে নিতে পঞ্চগড়ে সবচেয়ে বড়ো আয়োজন হয় কলেজ গুলোতে। চারুকলা এছাড়াও বসন্তের উৎসব উদযাপন হয়ে থাকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এ আয়োজন নানা সাজে নেয় সব বয়সের মানুষ। এর উদ্বোধন ঘোষণা করে থাকেন কলেজের উপাচার্য মহোদয় গন। এভাবেই প্রতিবছরের ন্যায় পহেলা ফাল্গুন ও বসন্ত বরণ হয়ে থাকে। এটি বাঙালি জাতির ঐতিহ্য বলা যেতে পারে। চারিদিকে পাখিদের কোলো কাকুলি মৌমাছির গুনগুনানি মধু আহরণে যেন ব্যস্ত সময় পার করেন তারা। আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ দক্ষিণা বাতাসে সুবাস ছড়ায়। ফাল্গুন যেন সবাইকে বলে দেয় নতুন এক অনুভূতির বার্তা।

