আবুজর গিফারী, পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনার বেড়া উপজেলায় মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে এক বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে মাদক সেবন ও বিক্রির দায়ে ৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং একজনকে ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
বেড়া মডেল থানা সূত্রে জানা যায় যে, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভোর থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেড়া সার্কেল), লাবীব আব্দুল্লাহ এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে বেড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ, নয়ন কুমার সরকারের তত্ত্বাবধানে উপজেলার কৈটোলা ও মৈত্রবাঁধা এলাকায় মাদক বিরোধী এ অভিযান পরিচালিত হয়। বেড়া মডেল থানা সূত্রে জানা যায় যে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেড়া সার্কেল), লাবীব আব্দুল্লাহ এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে বেড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ, নয়ন কুমার সরকারের তত্ত্বাবধানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর বিভিন্ন ধারায় বেড়া মডেল থানার একটি চৌকস পুলিশ টিম এই অভিযানে সহায়তা প্রদান করে।
আবদুল কাদের (৩ মাসের কারাদণ্ড): ভোরবেলা কৈটোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক সেবন করে অসংলগ্ন আচরণ ও শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্টের অভিযোগে বাটিয়াখড়া গ্রামের আবদুল কাদেরকে আটক করা হয়। আদালত তাকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
শামীম হোসেন (৬ মাসের কারাদণ্ড): একই এলাকা থেকে ভ্যানের সাহায্যে মাদক বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নতুন ভারেংগা গ্রামের ভ্যানচালক শামীম হোসেনকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মোঃ স্বপন সরদার ওরফে ‘গাঞ্জা স্বপন’ (১ বছরের কারাদণ্ড ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানা) দুপুর ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত মৈত্রবাঁধা এলাকায় অপর এক অভিযানে এলাকার চিহ্নিত এই মাদক ব্যবসায়ীকে বাড়ির পাশের বাঁশবাগান থেকে আটক করা হয়। গ্রেফতারের পর বেড়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার করেন। এ সময় ঝোপঝাড় থেকে মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত ৩টি ওয়েট মেশিন, গাঁজা প্যাকিংয়ের পলিথিন, মোমবাতি, সিগারেট, লাইটার ও কিছু গাঁজা জব্দ করা হয়। আসামি নিজের অপরাধ স্বীকার করায় আদালত তাকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৩ মাসের অতিরিক্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে কৈটোলা এলাকায় পুলিশের পক্ষে প্রসিকিউশন দাখিল করেন এসআই আলী আজম। অন্যদিকে, মৈত্রবাঁধা এলাকায় কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী স্বপন সরদার (ওরফে গাঞ্জা স্বপন) কে আড়াই ঘন্টার দুর্ধর্ষ অভিযানে সশরীরে আটকে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন এএসআই শাহ আলম ও এএসআই সোহেল রানা। জব্দকৃত মালামাল প্রসিকিউশন দাখিলকারী এসআই নাসির উদ্দিনের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান বলেন: “জনস্বার্থে এবং এলাকাকে পুরোপুরি মাদকমুক্ত করতে আমাদের এই ধরণের মাদকবিরোধী কঠোর অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। মাদকের সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

