আবুজর গিফারী// বেড়ায় যমুনা নদীর উপর Y টাইপ বহুমুখী সেতু স্থাপন ও নদীর পশ্চিম পার্শ্বস্থ তীরে আধুনিক মানের নদী বন্দর গড়ে তোলা এবং বেড়া উপজেলা আলাদা নির্বাচনী এলাকা গঠনের দাবি সহ বেড়া উপজেলার নানান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু হল। আজ বুধবার, ০৪ জানুয়ারী,২০২৬, চৌধুরী মেমোরিয়াল স্কুল এ্যান্ড কলেজ কনফারেন্স রুমে বেড়া প্রেস ক্লাব সভাপতি ডাঃ মোঃ আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিকেল ৫ ঘটিকায় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে “ঐতিহ্যবাহী বেড়া উপজেলা উন্নয়ন ফোরাম” এর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার মধ্যে দিয়ে সংস্থাটির আত্মপ্রকাশ ঘটে। উক্ত আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ মকসুদ আলম চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আলী মিঠু, মোঃ আব্দুস সবুর।
“ঐতিহ্যবাহী বেড়া উপজেলা উন্নয়ন ফোরাম” সভাপতি নির্বাচিত করা হয় জনাব মকসুদ আলম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মোহাম্মদ আলী মিঠু। এরপর নব নির্বাচিত সভাপাতি সংস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গুলো পেশ করেন। এর মধ্য উল্লেখযোগ্য:- কাজিরহাট, আরিচা, দৌলদিয়া আঞ্চলকে সংযুক্ত করে যমুনা নদীর উপর Y টাইপ বহুমুখী সেতু স্থাপন, যমুনা নদীর পশ্চিম পার্শ্বস্থ তীরে আধুনিক মানের নদী বন্দর গড়ে তোলা, বেড়া উপজেলাকে নিয়ে আলাদা নির্বাচনী এলাকা গঠন, বেড়াকে সংযুক্ত করে ঢাকা পাবনা সরাসরি রেল যোগাযোগ বাস্তবায়ন, ঢাকা-বেড়া-পাবনা হাইওয়েকে ৪ লেনে উন্নীত করার দাবী জোরদার করা, এবং বেড়া ডিগ্রী কলেজ কে বিশ্ববিদ্যালয় করার উদ্যোগ সহ এই অঞ্চলে শিক্ষাখাত, স্বাস্থ্যসেবা, জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নদী শাসন সহ অন্যান্য জনকল্যাণ মূলক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অন্যতম।
আজকে একটা বিশেষ উদ্দেশ্য সামনে রেখে আপনাদেরকে এখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এলাকার কতিপয় প্রায় ব্যক্তিগনের পরামর্শক্রমে পাবনার অন্যতম প্রাচীন এলাকা বেড়ার সার্বিক উন্নয়নকল্পে একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা প্রনয়নের পাশাপাশি তা বাস্তবায়নের জন্য কিছু ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কাজ করা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। এক্ষেত্রে কাজগুলো একটা স্বেচ্ছাসেবী অরাজনৈতিক সংগঠনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা উত্তম।
১৮২৮ সালে মথুরা প্রশাসনিক থানা হিসেবে গঠিত হয়। ১৯২৭ সালে যমুনা নদীর ভাঙ্গনে থানাটি বিলীন হয়ে গেলে তা বেড়ায় স্থানান্তরিত হয়। ১৯৮৩ সালে থানাটি উপজেলার মর্যাদা পায়। বর্তমানে একটি পৌরসভা এবং ৯ টি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে এ উপজেলার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
উপজেলাটি উত্তর দক্ষিনে লম্বালম্বি ভাবে অবস্থিত এবং এর হেডকোয়ার্টার বেড়া থানার এক প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় দূরতম প্রান্তে যোগাযোগে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। বেড়া থানাটি পৌরসভার মধ্যে হলেও জাতসাকিন ইউনিয়নের আমিনপুরে একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, নগরবাড়ী ও ঢালার চরে পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে।
উপজেলাটি যমুনা নদীর পাড়ে অবস্থিত হওয়ায় এটি প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি বড় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এক সময় এটি পাট ব্যবসার জন্য খুবই বিখ্যাত ছিল এবং এটাকে সেকেন্ড আদমজি বলা হতো। এছাড়া এক সময় বেড়া ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প এবং বিভিন্ন দুগ্ধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য খুবই বিখ্যাত ছিল যার জৌলুশ এখন আর নেই।
ইতিহাস বলে, বেড়ার প্রাচীন নাম ছিল শম্ভুপুর। যা মুলতঃ পদ্মা ও যমুনা নদীর তীরবর্তী নিরাপদ পোতাশ্রয় হিসেবে ৮০০ শতকের দিকে আরব বণিকদের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বানিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠে। পরবর্তীতে আরবী শব্দ ‘বেরুহা থেকে এর নামকরণ বেড়া পরিণত হয়। বেরুহা শব্দের অর্থ হচ্ছে নিরাপদ পোতাশ্রয় (safe port)।
তিনি আরো বলেন যে, বেড়া উপজেলা পাবনা জেলা তথা উত্তরবঙ্গের অন্যতম গেটওয়ে। এখানে প্রথম শ্রেণীর একটি পৌরসভা থাকা সত্ত্বেও উন্নয়নের ক্ষেত্রে অন্যান্য এলাকার তুলনায় বেড়া অনেকটাই পিছিয়ে। বিগত ২ দশকে সঠিক পরিকল্পনা, যোগাযোগ এবং সম্মিলিত উদ্যোগের অভাবে এলাকার কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি। অনেক সময় দলীয় স্বার্থের সংকীর্ণতার আবর্তে এলাকার কাঙ্খিত উন্নয়ন ব্যাহত হয়। বেড়াও এ ধরনের আবর্তে আটকে আছে; যা থেকে উত্তরণ আজ সময়ের দাবী। সুতরাং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সংগঠনের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী অরাজনৈতিক সংগঠনের গুরুত্ব অপরিসীম বলে দাবি করেন। তারই ধারাবাহিকতায় গঠিত হলো “ঐতিহ্যবাহী বেড়া উপজেলা উন্নয়ন ফোরাম”

