আব্দুল গাফফার শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়ার শেরপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে বাগানের কয়েকশ’ কলা গাছ কেটে সাবাড় করে ফেলেছে প্রতিপক্ষের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা। রবিবার (০৩মে) দুপুরের দিকে উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির দাবি, জোরপূর্বক জমিটির দখল নিতেই প্রতিপক্ষের ভাড়াটে লোকজন তাঁর বাগানের দুই শতাধিক কলাগাছ ও শিম গাছগুলো বিনষ্ট করেছে। এই ঘটনায় তাঁদের দুই লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিগত ২০১১ সালে ওই গ্রামের বাবলু মিয়ার ছেলে হারুনুর রশিদ তার দাদি আমেনা বেগমের নিকট থেকে বাইশ শতক জমি ক্রয় করেন। এরপর থেকে জমিটি ভোগদখলও করে আসছেন। সেইসঙ্গে জমিটিতে একপাশে কলাগাছের বাগান এবং আরেক পাশে সবজি (শিম) চাষ করেন। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে জমিটির মালিকানা নিয়ে একই গ্রামের আব্দুস সাত্তার ও তার ছেলেদের সঙ্গে বিরোধ তৈরী হয়। যা আদালত পর্যন্ত গঁড়ায়। এমনকি বিষয়টি নিয়ে আদালতে একাধিক মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী হারুনুর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, ক্রয়কৃত জমিটির দখল নিতে প্রতিপক্ষ ভাটরা গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে আলাউদ্দিন ও আলমগীর হোসেন ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের নিয়ে ঘটনার সময় তাঁদের মালিকানাধীন বাগানে ঢুকে পড়েন। এমনকি বাগানের কলাগাছগুলো কেটে ফেলেন। সেইসঙ্গে সবজি ক্ষেতের শিম গাছগুলো বিনষ্ট করে। এরপর সেখানে জোরপূর্বক ইউক্যালিপটাস গাছ লাগানোর চেষ্টা চালান তারা। একপর্যায়ে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গেলে প্রতিপক্ষের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, জমিটি তাদের। তার বাবার নামে ডিপি ও আরএস (ফাইনাল) রেকর্ড রয়েছে। তাই দীর্ঘদিন জমিটি বেদখল হয়ে থাকলেও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যস্থতায় তাদের পক্ষে রায় আসায় বিবাদমান জমিটি দখলে নিয়েছেন। এছাড়া তারা কোনো গাছ কাটা ও সবজি ক্ষেত নষ্ট করে ক্ষতি করেননি বলে মন্তব্য করেন। শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈনুদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, জমি দখল ও কলাগাছ কাটার কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

