পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনার একদিন না পেরোতেই এবার দুই যুবদল নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাতে শহরের সিনেমাহল মার্কেট ও বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে পৃথকভাবে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে পৌর যুবদলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম ইরান ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে সিনেমাহল মার্কেট এলাকায় প্রথম ঘটনাটি ঘটে বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। আহত দুই নেতাই পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে কয়েকজন সাংবাদিককে সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন শেষে সিনেমাহল মার্কেটে চা খেতে যান পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সমর্থক কয়েকজন নেতাকর্মী। এ সময় সেখানে নওশাদ জমিরের কয়েকজন সমর্থকের সঙ্গে তাদের কথাকাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আরিফুল ইসলাম ইরানকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইরানের পেটের নিচের অংশে আঘাত করা হয়েছে বলেও তার সমর্থকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। পরে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, একই রাতে পঞ্চগড় বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে হারুন অর রশিদকে প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা মারধর করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ সময় তার মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পরে তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, আরিফুল ইসলাম ইরান নামে একজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার পেটের নিচের অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে রোববার সকালে পঞ্চগড় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদের উপস্থিতিতে বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে ওই ঘটনার জেরে রাতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
পরপর এসব ঘটনায় পঞ্চগড়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ আরও প্রকাশ্যে এসেছে। তবে পরিস্থিতি যাতে নতুন করে সংঘাতের দিকে না যায়, সে জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সমঝোতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করার দাবি উঠেছে।

