বিপ্লব সাহা, খুলনা ব্যুরো:
নগরবাসীকে বিদেশি সহযোগিতা বা ঋণের সাগরে না ভাসিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে তিলোত্তমা খুলনা গড়ার প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেছেন প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
উল্লেখ্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের সকল সিটি কর্পোরেশন এর গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় স্থানীয় সরকার প্রধানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ মার্চ থেকে খুলনা নগর ভবনের গুরু দায়িত্ব গ্রহণ করেন মঞ্জু।
ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে গ্রীন পরিচ্ছন্ন খুলনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ধাপে ধাপে অসংখ্য কাজ দৃশ্যমান করেছে পাশাপাশি খুলনা মহানগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের উন্নয়ন পর্যায়ক্রমে নিজস্ব আয়ের অর্থায়নে করবে বলে দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন । একই সাথে উন্নত, ক্লিন, গ্রিন ও স্বস্তির নগরী গড়ে তুলতে চান।
বিএনপি রাষ্ট্র্রীয় ক্ষমতা নেয়ার পর ১ মার্চ তিনি প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তার দায়িত্বের ৬ মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। নতুন অর্থ বছরের ২ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর ৭ সেপ্টেম্বর তিনি বাজেট ঘোষণা করবেন। শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে বেলা ১১টায় বাজেট ঘোষণার আয়োজন রয়েছে। এ অনুষ্ঠানে কেডিএর চেয়ারম্যান, ওয়াসার চেয়ারম্যান, খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক, স্থানীয় রাজনীতিক, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
চলতি অর্থ বছরের কর্পোরেশনের জন্য ৬০১ কোটি ৭৯ লাখ ৭ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করা হবে। গত অর্থ বছরে ৭১৯ কোটি ৫০ লাখ ৩৬ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়। বাস্তবায়ন হয় ৩৩৮ কোটি ৯৭ লাখ ২১ হাজার টাকা। এ অর্থের মধ্যে সরকারি অনুদান ১৯৭ কোটি টাকা এবং দাতা সংস্থার ৭৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
কর্পোরেশনের সূত্র জানায়, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৮২৩ কোটি টাকার ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্প সম্পন্নের সমসীমা বাড়ানো হয়েছে। চলতি অর্থ বছর এ প্রকল্পে ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকবে।
ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, জার্মান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক, জার্মান উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা সংস্থারা নগরীতে ৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ সব প্রকল্পে চলতি অর্থ বছরে ৭৯ কোটি ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বাজেটের বাইরে ৪শ কোটি টাকা ব্যয়ে জিয়া হল প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, শহরের রাস্তা ঘাট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিধন, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, ক্লিন সিটি, বৃক্ষ রোপন সব মিলিয়ে একটা উত্তম বাজেট দেয়ার চেষ্টা করছি। খুলনা সিটি করপোরেশনের দেশের মধ্যে এমন একটি কর্পোরেশন যার কারো কাছে হাত পাততে হয় না। নিজস্ব সব ধরনের ব্যয় নিজস্ব আয় থেকেই করতে পারে। এখানে অনুদান নির্ভরশীলতা নেই। তবে, উন্নয়ন কাজের জন্য সরকারি ও বিদেশি কয়কটি সংস্থার সহায়তা থাকে। কিছু প্রকল্প তারা দেয়। বাকী সকল কাজই কর্পোরেশন তার আয় দিয়ে ব্যয় নির্বাহ করে।

