বিপ্লব সাহা, খুলনা ব্যুরো:
খুলনা পুলিশ কমিশনার সহ অন্যান্য প্রশাসনিক মহল যৌথভাবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মদক দ্রব্য উদ্ধার মাদক সেবনকারী মাদক বিক্রেতা ও কথিত কিছু সন্ত্রাস আটক করতে সক্ষম হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে খুলনা শহর তথা আশপাশ এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী প্রকাশ্য খুন খারাবি চাঁদাবাজি মাদক কারবারের অন্যতম সংগঠন বি কোম্পানির গডফাদাররা।
খুলনা সাধারণ জনগণের অভিযোগসূত্রে উল্লেখযোগ্য ভাবে বলা যেতে পারে খুলনা এলাকা জুড়ে চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও সন্ত্রাস দমনে চলছে যৌথবাহিনীর বাহিনীর বিশেষ অভিযান। গত তিনদিনে ২২২ জন অপরাধীকে বিভিন্নস্থান থেকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনীর সদস্যরা। তবে বিশেষ অভিযানের আগাম খবর পেয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আত্মগোপনে চলে গেছে, ফলে তালিকাভুক্ত এ অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খুলনার নাগরিক নেতারা।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, যৌথ বাহিনী কখন কোথায় কোন সময়ে অভিযান চালাবে তার আগাম তথ্য সন্ত্রাসীদের হাতে চলে যাচ্ছে। কার্যত এ অভিযানের ফলাফল শূন্য।
কেএমপি’র সূত্র জানায়, গত ৩ জুন থেকে খুলনায় বিশেষ অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮৪ জন অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দিনে খুলনার বিভিন্নস্থান থেকে ৬৩ জন, দ্বিতীয় দিনে ৫৯ জন এবং তৃতীয় দিন শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১০০ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টার বিশেষ অভিযানে খুলনা সদর থানায় ৩২ জন, খালিশপুর থানায় ১৮ জন, সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় ১৩ জন, লবণচরা থানায় ১৪ জন, হরিণটানা থানায় ৪ জন, দৌলতপুর থানায় ৫, আড়ংঘাটা থানায় ২ জন, খানজাহান আলী থানায় ১০ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ২ জনকে গ্রেপ্তার করা করে। অভিযানকালে মদ, গাজা, ইয়াবার মত মাদক কারবারি, ছিঁচকে চোরসহ ছোটোখাটো অপরাধীরা ধরা পড়েছে। কিন্তু অস্ত্রধারী শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সকলে রয়েছে ধরা ছোঁয়ারা বাইরে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাক ঢোল পিটিয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করায় অভিযানের আগাম খবর সন্ত্রাসীদের হাতে চলে যাচ্ছে। ফলে সন্ত্রাসীদের আত্মগোপনে চলে যাওয়া খুবই সহজ হচ্ছে। সে কারণে এসব শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা যৌথ বাহিনীর অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা খায়রুল আলম জানান, গত তিনদিন সন্ধ্যার পর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে অভিযান চালাচ্ছেন যৌথবাহিনীর সদস্যরা। কয়েকজন ছিঁচকে চোর ছাড়া বড় কোনো সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার করতে পারেনি তারা। এ থানার বিভিন্ন অলিগলিতে প্রতিদিন মাদকের হাট বসে। অভিযান শুরু হলে তাদের দেখা যায় না। কিন্তু শেষ হওয়ার সাথে সাথে তারা পুনরায় আবারও পয়েন্টগুলোতে এসে মাদক বিক্রি করে। তিনি প্রশ্ন তোলেন কীভাবে তারা অভিযানের আগাম খবর পায় এবং গ্রেপ্তার হয় না কেনো।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শেখপাড়া চামড়া পট্টি অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তিন পুরিয়া গাঁজাসহ দু’জন আটক করা হয় সেখান থেকে। যারা বিক্রি করে তারা কেন গ্রেপ্তার হয় না। অভিযানের আগাম খবর পেয়ে মাদককারবারীরা স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যায়। রাত সাড়ে ৯টার কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তারা আবারও কার্যক্রম শুরু করে।
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব বাবুল হাওলাদার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা পুলিশের কাছে আছে। তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের নামে পুলিশ চুনোপুঁটিদের ধরছে। যেটা এক ধরনের আইওয়াশ। রাঘব বোয়াল ও অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা ব্যর্থ হলে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
কেএমপি পুলিশ কমিশনার মোহম্মাদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত বুধবার থেকে পুলিশ, র্যাব ও এপিবিএনের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী নগরীর বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ২২২ জন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে সন্ত্রাসী লিটন, রিফাত, আযম খান, মিরাজ মৃধা, রাব্বিসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুলনা শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অনেক সময় বাইরে থেকে সন্ত্রাসীরা এসে খুলনায় অপরাধমূলক কার্যক্রম করে চলে যাচ্ছে। সেগুলো প্রতিহত করার জন্য প্রবেশদ্বারে চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে। আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে অনেক সন্ত্রাসী কারাগার থেকে বের হচ্ছে। তাদের ওপরও নজরদারি রাখা হয়েছে। কোনো ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

