স্টাফ রিপোর্টার. মানিকগঞ্জ
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জামির্তা ইউনিয়নের হুটের ও রাজনাসুর মৌজায় সরকারি হাতনী খাল ভরাট করে তিন ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধভাবে চালানো হচ্ছে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড, যা ইতোমধ্যেই পরিবেশ ও কৃষিতে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকদিন ধরে গভীর রাতে সরকারি খালে মাটি ফেলে তা ভরাট করে পাশের উর্বর কৃষিজমি থেকে ভেকু (এক্সেভেটর) দিয়ে মাটি কেটে ট্রাকযোগে ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ডিগ্রীচর গ্রামের মৃত জসিম মেম্বারের ছেলে দানেছ ও ইউনুস, জবেদের ছেলে আজিমদ্দিন, বাউদি পাড়া গ্রামের ছালাম ও নুর ইসলাম, একই এলাকার নাজিমুদ্দিন এবং সুলতানসহ কয়েকজন ব্যক্তি এই মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাতনী খালের একটি অংশ মাটি ও ইট দিয়ে ভরাট করে সেখানে অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। সেই পথ ব্যবহার করেই ট্রাকের মাধ্যমে কৃষি জমির মাটি পরিবহন করা হচ্ছে। তবে দিনের বেলায় অভিযুক্তরা মাটি কাটার যন্ত্র সরিয়ে ফেলায় ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত দানেছের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল করিম বলেন, “এই জমিগুলোতে বছরে তিনবার ফসল হয়। এখন যেভাবে মাটি কাটা হচ্ছে, এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে যাবে।”
আরেক কৃষক নাজিমুদ্দিন জানান, “খাল ভরাট হয়ে গেলে বর্ষায় পানি নামতে পারবে না। এতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে আশপাশের জমি ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খাল ভরাটের ফলে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে এখনো পর্যন্ত প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে এই অবৈধ মাটি কাটার কার্যক্রম বন্ধ করে সরকারি খাল পুনরুদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

