বিপ্লব সাহা খুলনা ব্যুরো:
বর্তমান সরকার রাষ্ট্র চালাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ প্রতিটি জেলায় খুন, চাঁদাবাজি, দখলদারি,সাথে দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতি সবমিলে সরকারের স্বেচ্ছাচারিতায় জনগণের নাভিশ্বাস উঠছে, সাথে তাদের নগ্ন চাঁদাবাজি বিগত দিনের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
তাই সারা দেশের জনগণ এখন সরকারের প্রতি অতিষ্ঠ্য ফলে দেশ ও দেশের জনগণের জানমাল রক্ষার্থে আরেকটি বিপ্লব আমাদের অতি সন্নিকটে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান খুলনা শিববাড়ি বাবড়ি চত্বর জনসভায় এসব কথা বলেন,
এ সময় তিনি আরো বলেন জনগণের দাবি আদায়ে আমরা কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় দাবি নিয়ে রাস্তায় নামিনি। এসব জনগণের দাবি। আমাদের আগের দুটি লংমার্চ জনগণের সহযোগিতায় সফল হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সাত দফা দাবির মধ্যে মূল দাবি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন। এ দাবি আদায় হলে বাকি ছয়টি দাবি মাথাচাড়া দিত না। বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে এবং তাদের আশাহত করেছে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করলে বিএনপিকে চড়া মূল্য দিতে হবে।’
শনিবার (৩১ অক্টোবর) খুলনা শিববাড়ি চত্বরে লংমার্চ এর জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এ লংমার্চের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি অতীত থেকে শিক্ষা নেয়নি। বরং নতুন নতুন জঞ্জাল সৃষ্টি করছে। অতীতে যারা দাসত্ব স্বীকার করেছে, তারা নিজেদের পরিণতি ভোগ করছে। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, আপনারা আমাদের দাবি মেনে নিন। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করুন। আমাদের দাবি আদায় করে আমরা ছাড়ব।’
যুবসমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা কারও ছলনায় কান দিও না। জনগণের দাবি আদায়ে তিনি সবাইকে লংমার্চ সফল করার আহ্বান জানান।’
সমাবেশে এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, ‘আমরা চাই দেশটা ভালোভাবে চলুক। সিস্টেম ভালো না থাকলে দেশ ভালোভাবে চলতে পারে না। এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর জেলা, সিটি করপোরেশন ও বিভিন্ন করপোরেশন এখন বিএনপির কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে। সেখান থেকে সমস্ত টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা জুলাই বিপ্লবের প্রতি আমাদের কমিটমেন্ট পুনর্ব্যক্ত করছি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে আসছি। সরকার গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে গাদ্দারি করছে, জনগণকে অসম্মান করছে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, গণভোট অবৈধ হলে এ সরকার ও সংসদও বৈধ হতে পারে না। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। তেল-গ্যাস সংকটে জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করায় দেশে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বেড়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বিএনপি ভুল পথে পা বাড়িয়ে ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে। সংবিধান সংস্কার না করে সংবিধান সংশোধন কমিটি করে সরকার একদলীয় শাসনের পথে হাঁটছে। জুলাই সনদের সঙ্গে গাদ্দারি করে সরকার জনগণকে লাল কার্ড দেখিয়েছে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১ দলের কর্মীদের আহত করারও নিন্দা জানান তিনি। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, জাগপা সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, এমপি মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম ও ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। খুলনা খুলনার জনসভা শেষে ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।এরপর খুলনা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মুড়লীর মোড় এবং ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে লংমার্চের বহরের। সবশেষে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

