স্টাফ রিপোর্টার মো আরিফুল ইসলাম
পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা এলাকায় এক নারীকে জড়িয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে জেলা শহরের ধাক্কামারা ক্লাব হলরুমে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী রূপালী বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, গত ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় পাশের বাড়ির রফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা তার সীমানার ভেতরে থাকা সুপারি জোর করে নিতে গেলে তিনি বাধা দেন। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং জোর করে টেনে তাদের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়।
রূপালী বেগম বলেন, দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে তারা আমাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে আসছে। সেদিন আমি শুধু ঘর থেকে জানতে চেয়েছিলাম, কে আমার দরজা ডাঙ্গা ডাঙ্গী করছেন —এই কথাতেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে টিনের দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে পড়ে। পরে তারা পরিকল্পিতভাবে আমাকে মারধর করে।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে রফিকুলের নাতি সিয়াম আমাকে একাধিকবার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে আমি বাইরে বের হলে রফিকুল আমার চুল ধরে ঘরের ভেতরে নিয়ে যান এবং দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
তিনি আরও বলেন, আত্মরক্ষার্থে আমি রফিকুলের হাতে কামড় দিলে তিনি ঘর থেকে ছুরি এনে আমার মাথায় আঘাত করেন। এতে আমার মাথায় গুরুতর জখম হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পাই। বর্তমানে আমি ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারছেন না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর উল্টো অভিযুক্তরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করে সাবুল ও মাসুমের নাম ব্যবহার করে চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলেছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমরা কারও কাছে কোনো টাকা চাইনি। আমাদের হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যই এমন মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে।
রূপালী বেগম আরও দাবি করেন, স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি আরঙ্গজেবের মাধ্যমে তার স্বামীর কাছে মীমাংসার নামে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। আমরা গরিব মানুষ, এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই। টাকা না দিলে নাকি কোনো বিচার হবে না—এমন কথাও বলা হয়েছে।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

