মোঃ আয়নাল হক রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
“রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। রবিবার সকাল ১১টার দিকে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামন থেকে একটি র্যালি বেড় হয়ে উপজেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদিক্ষণ শেষে উপজেলা বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম পাপু মিয়া মিলনায়তন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ২৮ কুড়িগ্রাম- ৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল হাসান, রৌমারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান, রৌমারী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেনসহ অনুষ্ঠানে মৎস্যচাষি, মৎস্যজীবী, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় মৎস্য পক্ষের গুরুত্ব ও দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান তুলে ধরে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস মাছ। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বক্তারা আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে মাছ চাষের পরিধি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ, জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষা, মাছের অভয়াশ্রম সংরক্ষণ এবং ক্ষতিকর উপায়ে মাছ শিকার বন্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। আলোচনা সভায় মৎস্যচাষীদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে মাছের খাদ্য, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ, উন্নত জাতের পোনা সরবরাহ, বাজারজাতকরণ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদান রাখা সফল মৎস্যচাষীদের হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা আধুনিক ও টেকসই পদ্ধতিতে মাছ চাষের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে মৎস্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে আয়োজকরা জানান। উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, জাতীয় মৎস্য পক্ষের মূল উদ্দেশ্য হলো মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন, সংরক্ষণ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে আরও সচেতন ও সম্পৃক্ত করা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা মৎস্য খাতের উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি মৎস্যচাষী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব মাছ উৎপাদনের মাধ্যমে রৌমারীকে মৎস্য উৎপাদনে আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি মৎস্যচাষী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।

