মাধবপুর হবিগঞ্জ প্রতিনিধি,,
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ৪ নম্বর আদাঐর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অর্থবছরের উন্নয়ন বরাদ্দ ও স্থাবর সম্পত্তির হস্তান্তর করের (১ শতাংশ) অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদের কর্মচারী ও বাসিন্দাদের দাবি, কাগজে একের পর এক উন্নয়নকাজ দেখানো হলেও সরেজমিনে তার অনেকগুলোর বাস্তব অস্তিত্ব বা দৃশ্যমান অগ্রগতি মিলছে না। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১-২২ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে ইউনিয়ন পরিষদে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে ভবন সংস্কার, দরজা-জানালা মেরামত, টিন পরিবর্তন, কম্পিউটার ও প্রিন্টার ক্রয়, আসবাবপত্র সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের নামে কয়েক দফায় অর্থ ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে।
সরেজমিনে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের সামনের অংশে সামান্য রং করা ছাড়া উল্লেখযোগ্য সংস্কারকাজ চোখে পড়েনি। অফিসের বিভিন্ন কক্ষ, আসবাবপত্র ও অবকাঠামোর অবস্থাও দীর্ঘদিনের মতোই রয়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
সংরক্ষিত নারী সদস্য সালমা বেগম বলেন, “অফিসের যে অবস্থা, তাতে এত বরাদ্দের কাজ কোথায় হয়েছে, সেটাই প্রশ্ন। সামান্য রং ও কয়েকটি টিন পরিবর্তন ছাড়া তেমন কোনো উন্নয়ন চোখে পড়ে না।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়ন পরিষদের এক গ্রাম পুলিশ বলেন, “অফিসে মৌলিক সুযোগ-সুবিধারও ঘাটতি রয়েছে। পানির জন্যও বাইরে যেতে হয়।”
নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩ লাখ ২০ হাজার ৮১৬ টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। এসব বরাদ্দের আওতায় ভবন সংস্কার, কম্পিউটার ও প্রিন্টার ক্রয়, কম্পিউটার মেরামত, আসবাবপত্র সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের হিসাব রয়েছে।
এদিকে যায়যায় কালের প্রশ্নোত্তরে ২ নম্বর ওয়ার্ডের একটি মাজার উন্নয়ন প্রকল্পের ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ করা হয়, বরাদ্দের পুরো অর্থ কাজে ব্যয় হয়নি। জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, ওই প্রকল্পে ভালো কাজ হয়েছে এবং সেখানে কোনো দুর্নীতি হয়নি।
একই প্রশ্নোত্তরে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, “প্রকল্পের প্রায় ৭৫ শতাংশ টাকার কাজ আমি নিজেই করে থাকি।
ইউনিয়ন পরিষদের জন্য কম্পিউটার কেনার বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কর্মচারীরা ব্যক্তিগত ল্যাপটপ ব্যবহার করেন—এমন অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।
ইউনিয়ন পরিষদের কর ২০৩১ সাল পর্যন্ত অগ্রিম আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে প্রথমে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত কর আদায় করা সম্ভব। পরে এ-সংক্রান্ত রসিদের তথ্য সামনে আনা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তাঁর কাছেও এসেছে এবং প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউনিয়ন পরিষদের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে চেয়ারম্যান বলেন, করের অর্থ থেকে ইতোমধ্যে বকেয়া বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে হিসাবরক্ষক গোবিন্দের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
ইউনিয়ন সচিব ও সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারাও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান মীর খোরশেদ আলম বলেন, সর্বশেষ বরাদ্দের অর্থ দিয়ে চেয়ার, টেবিল, টিনসহ প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কোনো অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি দাবি করেন।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।
সত্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

