খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির গুইমারায় দুই সশস্ত্র গ্রুপের গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ ইউপিডিএফ সংগঠককে উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, শুক্রবার ২৬ জুন সকাল আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে সিন্দুকছড়ি জোনের পাইনছং এলাকায় দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র দলের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে সিন্দুকছড়ি জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইসমাইল সামস আজিজি, পিএসসি, জি-এর নেতৃত্বে দুটি বি-টাইপ টহল দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
পাহাড়ি দুর্গম পথ অতিক্রম করে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ইউপিডিএফ (মূল)-এর পোস্ট কমান্ডার জিমিত চাকমাকে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে সেনাবাহিনী তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে।
অভিযান চলাকালে তার কাছ থেকে ২টি দেশীয় পিস্তল, ১টি ম্যাগজিন, ১টি খালি কার্তুজ, ১টি প্রিন্টার, ১টি লেমিনেটিং মেশিন, ইউপিডিএফের পতাকা ও ব্যানার, বিভিন্ন বই ও প্রকাশনা, চাঁদা আদায় সংক্রান্ত রেজিস্টার ও অন্যান্য নথিপত্র এবং ২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
নিরাপত্তা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, জিমিত চাকমা গত বছর খাগড়াছড়িতে সংঘটিত ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও সংগঠক ছিলেন। এছাড়া বহুল আলোচিত রামসু বাজার সহিংসতা এবং তিন উপজাতি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ একাধিক ফৌজদারি মামলাও চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আহত জিমিত চাকমাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গুইমারা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

