মোঃ কামাল উদ্দিন মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি
জামালপুরের মাদারগঞ্জে ফাঁসিতে ঝুলে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বেলা ২ টায় মাদারগঞ্জ পৌরসভার বাণিকুঞ্জ নিজ বাড়ীতে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা।
নিহত সজিব(২৬) ওই এলাকার নজরুল ইসলাম ভুট্টোর বড় ছেলে । স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে নিজ বাড়ীতে একটি রুমে একাই থাকতো সজিব। তার রুমের জানালা খোলা থাকায় দুপুর পর জানালা দিয়ে দেখতে পায় সজিবের ঝুলন্ত লাশ। থানায় খবর দিলে ওসি স্নেহাশিষ রায় একটি ফোর্স পাঠিয়ে দেন এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ পরিদর্শন করে।
সজিবের বাবা নজরুল ইসলাম ভুট্টোর ফলের দোকান ছিল ঋণ থাকায় ব্যবসা ও জমি বিক্রি করে দিয়েছে। বর্তমানে কুমিল্লাহ হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করেন তিনি। মা স্কুল থেকে এসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
আনুমানিক ৩/৪ বছর পূর্বে সজিবের জন্য মেয়ে দেখতে গিয়ে সড়কদূর্ঘটনায় মারা যায় তার মামা ঐ সময় থেকে সে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে প্রতিবেশী আলমগীর হোসেন ও এনামুল হক জানান সজিব দীর্ঘদিন থেকেই মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে বাড়ীতে একাই ছিল। মা একটি প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ও বাবা নজরুল ইসলাম ভুট্টো ঋণগ্রস্থ হয়ে যাওয়ায় কুমিল্লায় ছোট্ট একটা ব্যবসা করছে। সজিবের রুমের জানালা খোলা থাকায় লোকজন দেখতে পায় তার রুমেই ফ্যানের সাথে ঝুলে আছে। খবর পেয়ে আমরাও ছুটে আসি। তার বাবা কে খবর দেওয়া হয়েছে।
নিহতের খালা আঞ্জুয়ারা বেগম জানান ৩/৪ বছর পূর্বে সজিবের বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় তারা মা, এ সময় মাথায় আঘাত পায় সজিব তখন থেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এ অবস্থায় বিয়ে করালেও বউ তারে রেখে চলে যায় একাকিত্ব জীবন কাটাচ্ছিল সজিব। সব সময় বাড়ীতে তার রুমে একাই থাকতো। তার এ মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না।
মাদারগঞ্জ মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি স্নেহাশিষ রায় জানান পরিবার সূত্রে জানা গেছে সজিব মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। স্থানীয় লোকজন তার রুমের জানালা দিয়ে সজিবের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায় এবং থানায় খবর দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পরিদর্শন করে। পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন জানিয়েছে সে ক্ষেত্রে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

