জেলা প্রতিনিধি নড়াইল
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার আমডাঙ্গা গ্রামে অবস্থিত কৃষি খামার কর্মরত রনি চৌধুরীকে (১৪)পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে আমডাঙ্গা গ্রামের তাইজেল ফকিরের ছেলে সোহেল ফকিরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। আহত রনি চৌধুরীর গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রাউথ খামার গ্রামের রতন চৌধুরীর ছেলে।

২০ই এপ্রিল সোমবার সকাল আনুমানিক ১০ টার সময় আমডাঙ্গা গ্রামে অবস্থিত কৃষি খামারে এঘটনা ঘটে।
আহত রনি চৌধুরী বলেন..আজ সকালে আমডাঙ্গা গ্রামের তাইজেল ফকিরের ছেলে সোহেল ফকিরসহ কয়েকজন আমাদের খামারে এসে ইচ্ছামত আখ কেটে নিয়ে যাচ্ছিলো,তখন আমি আখ কাটতে বাধা দিলে তারা আমার উপর চড়াও হয়ে বিভিন্ন হুমকি প্রদান করতে থাকে পরে তাদের সামনেই আমি আমার খামারের মালিক আমডাঙ্গা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ওয়াহিদুজ্জামানকে ফোন করে জোরপূর্বক আখ কেটে নেওয়ার কথা বলতেই সোহেল ফকিরসহ কয়েকজন আমাকে আখ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করে। এসময় আমার ডাক চিৎকারে ঐ খামারে কর্মরত কয়েকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।আমি বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
এঘটনায় আহত রনি চৌধুরীর বাবা রতন চৌধুরী ও মা রিংকু চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন.. আমরা সংখ্যালঘু পরিবার ঐ খামারে কর্মরত অবস্থায় দুর্বৃত্তরা আমার ছেলেকে পিটিয়ে আহত করেছে। এবং তারা আমার ছেলেকে রাতে কুপিয়ে মেরে ফেলবে বলে হুমকিও দিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আমরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। আমরা এর নায্য বিচারের দাবি করছি।
ওই কৃষি খামারের মালিক জয়পুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ওয়াহিদুজ্জামানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন.. আমার ওই কৃষি খামারটি ৩৫ একর জমি নিয়ে বিস্তৃত। খামারে বিভিন্ন প্রকার ফসলের চাষ করে আসছি যেমন আখ, সূর্যমুখী, ভূট্টা,ধানসহ বিভিন্ন প্রজাতির কৃষি ফসলের চাষাবাদ করে থাকি। আজ সকালে তাইজেল ফকিরের ছেলে সোহেল ফকিরসহ কয়েকজন খামারে এসে জোরপূর্বক আখ কেটে নিয়ে যাচ্ছিলো এসময় খামারে কর্মরত রনি চৌধুরী বাঁধা দিলে তাকে সোহেলসহ কয়েকজন বেধড়ক মারপিট করেছে। এঘটনায় আমি খুবই ব্যাথিত। যারা এই ঘটনায় জড়িত তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোহেল ফকিরের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় লোহাগড়া থানার বিট অফিসার বিজন কুমার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবে বলে তিনি জানান।

