মোঃ সুমন ভুঁইয়া,বরিশাল জেলা প্রতিনিধি-
উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য!
জানা যায়,বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পরিচালিত একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে উপজেলার ৯নং কলসকাঠী ইউনিয়নের হর্ষবর্ধন শ্রিংলা সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের কাজ ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের তীর উঠেছে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ হাসনাইন আহাম্মেদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক টেলিভিশন চ্যানেলে সংবাদ প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাজের মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত টেন্ডার প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি।
উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন,ছোটখাটো সংস্কার কাজ,ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়নসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত থাকলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে দাবি স্থানীয়দের। তাদের অভিযোগ, বরাদ্দকৃত অর্থের বড় অংশ প্রকল্পে ব্যয় না হয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে লোপাট করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের অনেকে বলেন,“কাগজে-কলমে উন্নয়ন হলেও বাস্তবে কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। কিছুদিনের মধ্যেই রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে, অথচ পুরো বিল উত্তোলন করা হয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ হাসনাইন আহাম্মেদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এদিকে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে।
(চলবে — দ্বিতীয় পর্বে থাকছে আরও অভিযোগ ও প্রকল্পভিত্তিক অনুসন্ধান)।

