মোঃ রিপন রেজা স্টাফ রিপোর্টার নারায়ণগঞ্জঃ
উপমহাদেশের আধ্যাত্মিক জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র,সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পরম শ্রদ্ধার মহাপুরুষ বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ১৩৬তম তিরোধান উৎসব বুধবার থেকে তিন দিনব্যাপী গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য,ভক্তি ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে।এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন মঠ,মন্দির ও আশ্রমে বিশেষ পূজা-অর্চনা,ধর্মীয় আলোচনা,নামসংকীর্তন,গীতা পাঠ এবং প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত বাবা লোকনাথের পবিত্র বারদী আশ্রমকে কেন্দ্র করে উৎসবের মূল আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।ভোর থেকেই দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত,অনুরাগী ও দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে আশ্রম প্রাঙ্গণ।সাদা পোশাকে সজ্জিত ভক্তদের কীর্তন,প্রার্থনা ও ভজনের ধ্বনিতে পুরো এলাকা এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবহে রূপ নিয়েছে।ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ১২৯৭ বঙ্গাব্দের ১৯ জ্যৈষ্ঠ (১৮৯০ খ্রিস্টাব্দ)তারিখে বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী মহাসমাধিতে লীন হন।সেই দিনটিকে স্মরণ করেই প্রতি বছর তিরোধান উৎসব পালিত হয়।ভক্তদের কাছে এ দিনটি শুধুমাত্র স্মৃতিচারণের নয়,বরং আত্মশুদ্ধি,মানবসেবা এবং আধ্যাত্মিক চেতনা জাগরণের এক মহামিলনমেলা।উৎসব উপলক্ষে আশ্রমে মঙ্গল আরতি, বিশেষ পূজা,ভোগ নিবেদন,ধর্মসভা,ভক্ত সম্মেলন এবং সারাদিনব্যাপী নামসংকীর্তনের আয়োজন করা হয়েছে। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ আরতি ও শান্তি প্রার্থনা।ভক্তদের জন্য ব্যাপক প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী তাঁর জীবনদর্শনে মানবপ্রেম,সত্য,ত্যাগ ও সেবার যে শিক্ষা দিয়ে গেছেন,তা আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে প্রেরণার উৎস হয়ে আছে।তাঁর অমর বাণী“রণে বনে জলে জঙ্গলে, যখনই বিপদে পড়িবে,আমাকে স্মরণ করিও,আমি তোমাদের রক্ষা করিব”ভক্তদের কাছে আজও আশ্রয় ও আস্থার প্রতীক।১৩৬তম তিরোধান উৎসব উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠন পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের বার্তা ছড়িয়ে দিতে আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন সর্বস্তরের মানুষ।শ্রদ্ধা,ভক্তি ও আধ্যাত্মিক আবেগে সিক্ত এ তিরোধান উৎসব নতুন প্রজন্মের কাছে বাবা লোকনাথের আদর্শ ও মানবতার বাণী পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন ভক্ত ও ধর্মপ্রাণ মানুষ।তিরোধান উৎসবকে নিয়ে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আল জিনাত বলেন-লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রমে আসা ভক্তদের নিরাপত্তায় আশ্রম এলাকায় পুলিশ,র্যাব, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৬ শতাধিক সদস্য নিরাপত্তায় থাকবেন।এছাড়াও বারদী এলাকায় সিসি টিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।যে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি চুরি, ছিনতাই নিয়ন্ত্রনে রাখার চেষ্টায় থাকবে। তিনি আরও বলেন,এ উৎসবে অবৈধভাবে কিছু করতে দেয়া হবে না।কোন অভিযোগ পেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

