ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ভালুকায় চুক্তিনামায় মৃত ব্যাক্তির স্বাক্ষর জালিয়াতি করে বিল দখল ও জোরপূর্বক বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা সহ প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. সালাহ উদ্দিন শেখ ভালুকা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের বান্দিয়া এলাকার সিদ্দিকুর রহমান ও আশাব উদ্দিন প্রায় ১০ একর আয়তনের একটি বিল স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন। অভিযুক্তরা দীর্ঘ তিন বছর ধরে বিলের ইজারার টাকা পরিশোধ না করেই ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তারা বিলটি দখলে রেখে জোরপূর্বক মাছ চাষের চেষ্টা করছে বলে দাবী করছেন কৃষকরা। অভিযুক্তদের বিলে মাছ চাষ করতে নিষেধ করা হলেও তারা বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দিজয়ে ২৫ জুলাই সকালে অভিযুক্তরা লোকজন নিয়ে বিলে জোরপূর্বক বাঁধ দিতে শুরু করেন। এ সময় অভিযোগকারী বাধা দিলে তাকে হত্যার হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবী ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মেয়াদে উজ্জ্বলকে বিলটি ইজারা দিলেও এরপর তারা আর কাওকে ইজারা দেয়নি। তবে স্থানীয় বাদল খান ১লা জুন ২০২৩ থেকে ৩১/০৫/২০৩০ সাল পর্যন্ত ২৪ জন কৃষকের কাছ থেকে বিলটি ইজারা নেওয়ার চুক্তি পত্র সম্পাদন করেন। পরে বাদল খানের কাছ থেকে সিদ্দিকুর রহমান আরো একটি চুক্তি পত্র সম্পাদন করে বিলটি দখলে নিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগী কৃষকেরা আরও জানায়, বাদল খান কর্তৃক সম্পাদিত চুক্তিপত্রের ৩ নং দাতা শামসুদ্দিন শেখের বিলে ৪ শতাংশ জমি রয়েছে। তিনি গত ২ বছর আগে মারা যায়। তবে বাদল খানের চুক্তিপত্রে মৃত শামসুদ্দিনের স্বাক্ষরকে ঘীরে তৈরি হয়েছে নানান আলোচনা- সমালোচনা। এ বিষয়ে মৃত শামসুদ্দিনের ছেলের সাথে কথা হলে তিনি জানান তার বাবা স্বাক্ষর করতে পারতো না। মৃত শামসুদ্দিন ২০১৬ সালে টিপ সই দিয়ে উজ্জলকে বিলটি লিজ দেন এর পর আর কাওকে তিনি ইজারা দেননি বলে নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী মো. সালাহ উদ্দিন শেখ প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে, অভিযুক্ত সিদ্দিকুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি প্রতিবেদককে জানান, তিনি বাদল খানের কাছ থেকে ২৮/০৬/২০২৬ থেকে ৩১ মে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ৪ বছর মেয়াদের একটি চুক্তির মাধ্যমে বিলটি ইজারা নিয়ে বৈধ ভাবে মাছ চাষ করে আসছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

