পাইকগাছা কপিলমুনি প্রতিনিধি:
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কপিলমুনি বাজারের কলেজ রোডস্থ ‘দীপ স্টোর’-এর স্বত্বাধিকারী ব্যবসায়ী তপন মণ্ডলের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ তথ্য ছড়িয়ে ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ উঠেছে। ব্যক্তিগত আক্রোশ ও ব্যবসায়িক হিংসা থেকে এক প্রতিপক্ষ ব্যবসায়ী এ অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী তপন মণ্ডল জানান, গোপাল বিড়ির স্থানীয় ডিলার তপন পালের কাছে তিনি বিড়ি সরবরাহ চান। তবে বিড়ির সরবরাহ কম থাকার অজুহাতে তপন পাল তাকে বিড়ি দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে ব্যবসা সচল রাখতে তিনি বিকল্প উপায়ে গোপাল বিড়ি সংগ্রহ করে বিক্রি শুরু করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তপন পাল তার নিজ নামের ফেসবুক আইডি থেকে তপন মণ্ডলের বিরুদ্ধে চক্রান্তমূলক পোস্ট দেন।
উক্ত পোস্টে অভিযোগ করা হয়, তপন মণ্ডল নাকি নকল গোপাল বিড়ি বিক্রি করছেন। পাশাপাশি নিজ বাড়িতে রাতের আঁধারে বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের প্যাকেট ব্যবহার করে নিম্নমানের চা-পাতা, ভেজাল মসলা এবং হলুদ-মরিচের গুঁড়া প্যাকেটজাত করে কপিলমুনিসহ আশপাশের বাজারে বাজারজাত করছেন—এমন মারাত্মক ও ভিত্তিহীন দাবি করা হয়।
এ ধরনের মিথ্যাচারের তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়ে তপন মণ্ডল বলেন, “তপন পালের কাছ থেকে বিড়ি না পেয়ে বাধ্য হয়ে অন্য জায়গা থেকে নগদ টাকায় পণ্য এনে বিক্রি করছি। এখন প্রশ্ন হলো—একই বিড়ি তার কাছ থেকে কিনলে আসল, আর অন্য জায়গা থেকে আনলেই নকল হয়ে যায় কীভাবে? এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত। নগদ টাকায় মাল কিনে আজ আমার দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসার সুনাম নষ্ট হচ্ছে এবং আমাকে চোর সাজানো হচ্ছে। প্রয়োজনে আমি গোপাল বিড়ি ক্রয়-বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ করে দেব।”
তিনি আরও বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কপিলমুনি বাজারে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। সামান্য বিড়ি বিক্রির ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।”
ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে জানান, তদন্তে যদি তার কোনো অবৈধ বা জালিয়াতি কর্মের প্রমাণ মেলে, তবে কর্তৃপক্ষের দেওয়া যেকোনো আইনি শাস্তি তিনি মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত আছেন।
এদিকে, একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন দায়িত্বহীন অপপ্রচারের ঘটনায় কপিলমুনি বাজারের ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। অনতিবিলম্বে ঘটনার সত্যতা উন্মোচন করে দোষীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

