সুলাইমান পোদ্দার ষ্টাফ রিপোর্টার।
ভোলার তজুমদ্দিনের চরে মাছ ধরা এবং কৃষকের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত করে মহিষের বাতানের রাখাল ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কৃষক ও রাখাল পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শরীফ নামে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মুশফিকুর রহমান জানান, মঙ্গলবার রাতে হান্নানসহ এবং বুধবার সকালে শরীফ, সোহাগ, সজিব, গিয়াস ও সবুজ নামে ছয়জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে উপজেলার চর মোজাম্মেল এলাকার জিয়া বাজার সংলগ্ন ফজলু হাওলাদার ব্লকে ফসলি জমির ক্ষতি করে মহিষের বাতানের রাখাল ঘর নির্মাণের কাজ চলছিল। এ সময় খালে মাছ ধরতে আসা কৃষক সজিব ওই নির্মাণকাজে বাধা দেন। অভিযোগ রয়েছে, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাতানের রাখাল কবির ও ভুট্টো সজিবকে মারধর করে আটকে রাখেন।
কৃষক সোহাগ অভিযোগ করে বলেন, “ঘটনাটি আমরা চরের ব্লক নেতাদের জানাই। তারা বাতানের রাখালদের ডেকে আনতে বললে আমরা কয়েকজন সেখানে যাই। পরে তারা আমাদের ওপর এলোপাতাড়ি মারধর করে।”
কৃষাণী রোকেয়া বেগম অভিযোগ করেন, “বাতানের মহিষ আমাদের ফসল নষ্ট করলে আমরা বাধা দিই। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ছেলেকে একা পেয়ে মারধর করে আটকে রাখে। তাদের এলাকায় কোনো কৃষককে যেতে দেওয়া হয় না।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাখাল কবির। তিনি বলেন, “মহিষ নির্দিষ্ট এলাকায় থাকে। কারও ফসল নষ্ট করে না। বরং তারা আমাদের নির্ধারিত এলাকার খাল থেকে মাছ ধরে নিয়ে যায়।”
এ বিষয়ে তজুমদ্দিন থানার ডিউটি অফিসার জানান, চরে মারামারির ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

