মোঃ আব্দুল আজিজ শেখ, নওগাঁঃ
নওগাঁর নিয়ামতপুরে দাফনের প্রায় ছয় মাস পর আদালতের নির্দেশে সাজ্জাদ আলী (১৬) নামে এক কিশোরের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ খুঁটিতে কাজ করার সময় বেল্ট ছিঁড়ে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছিল। পরে এ ঘটনায় অবহেলার অভিযোগে মামলা হলে ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ উত্তোলন করা হয়।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের কয়েস গ্রামে পারিবারিক কবরস্থান থেকে লাশটি উত্তোলন করা হয়। নিহত সাজ্জাদ আলী ওই গ্রামের রেজাউল হকের ছেলে।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া জামে মসজিদের সামনে পাকা সড়কের পাশে একটি বিদ্যুৎ খুঁটিতে কাজ করছিলেন সাজ্জাদ। এ সময় খুঁটিতে ওঠার কাজে ব্যবহৃত বেল্ট ছিঁড়ে তিনি নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর পল্লী বিদ্যুতের ঠিকাদার শফিকুল বিভিন্নভাবে আশ্বস্ত ও প্রলোভন দেখিয়ে পারিবারিকভাবে সাজ্জাদের দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করেন। ফলে তখন লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়নি।
পরবর্তীতে সাজ্জাদের মা আজিদা বিবি বাদী হয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় ঠিকাদার শফিকুলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় শফিকুলকে আসামি করা হয়েছে। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ছাত্রাজিতপুর গ্রামের মৃত লাল মোহাম্মদের ছেলে।
নিহতের মা ও মামলার বাদী আজিদা বিবি অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলে ঠিকাদারের অবহেলার কারণে মারা গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য দেওয়া বেল্টসহ অন্যান্য সরঞ্জাম দুর্বল ছিল। কাজ করার সময় বেল্ট ছিঁড়ে বিদ্যুৎ খুঁটি থেকে পড়ে তার ছেলের মৃত্যু হয়।
লাশ উত্তোলনের সময় নিয়ামতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বেল্লাল হোসেনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নিয়ামতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম বলেন, আদালতের নির্দেশে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

