রাসেল কবির মেহেন্দিগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশাল জেলার কাজিরহাট থানার প্রতিটি ইউনিয়নে দিন দিন ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে মাদকের ব্যবসা। লতা, বিদ্যানন্দপুর, আন্দারমানিক, ভাসানচর ও আদর্শ নগর —প্রতিটি এলাকাই এখন মাদকের ‘আঁতুড়ঘরে’ পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় চিহ্নিত মাদক কারবারিরা বীরদর্পে ইয়াবা ও গাঁজার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে ধ্বংসের মুখে পড়ছে স্থানীয় যুবসমাজ অন্যদিকে এলাকায় জ্যামিতিক হারে বাড়ছে চুরির ঘটনা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, থানার বিভিন্ন পয়েন্টে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অত্যন্ত সুকৌশলে মাদক কেনাবেচা চলছে লতা ইউনিয়নের একতা কলেজ মাঠ, সোনাপুর গ্রামে বালুর মাঠে। হুয়ারহাট বাজার সংলগ্ন এলাকা এবং রতনপুর । বিদ্যানন্দপুর ইউনিয়নের শোন খালা বাজারে ইউপি পরিষদের মাঠে রাত ৮টার পর মাদক কারবারিদের মেলা বসে। । ৩নং ওয়ার্ডের বাদল রতনপুর গ্রামের জোড়া ব্রিজের কাছে সন্ধ্যার পর বসে মাদক বিক্রি । আদর্শ নগর ইউনিয়নের মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ।ভাসানচর ও আন্দারমানিক ইউনিয়ন সহ এসব ইউনিয়নেও চিহ্নিত মাদক সম্রাটরা অপ্রতিরোধ্য গতিতে গাঁজা ও ইয়াবার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজিরহাট থানা পুলিশ মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে কেবল দু-একজন ‘চুনোপুঁটি’ বা খুচরা মাদকসেবীকে আটক করলেও নেপথ্যে থাকাণ ‘রুই-কাতলারা’ সব সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। বর্তমানে পুলিশের মাদকবিরোধী দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই বললেই চলে।
সম্প্রতি আলোচিত নারি কেলেঙ্কারি ও মাদক সম্রাট একাধিক মামলার আসামি লতা ইউনিয়নের রতন খাঁর ছেলে রোমান খাঁ বীরদর্পে কাজিরহাট থানায় প্রবেশ করে করার পরে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হলেও সাধারণ মানুষের মাঝে কৌতূহল।
অভিযোগ রয়েছে, ভাসানচরসহ বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আগামী নির্বাচনের সমীকরণ ও নিজেদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে এসব মাদক কারবারিদের দেখেও না দেখার ভান করছেন। ফলে মাদক ব্যবসায়ীরা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এলাকাবাসীর একটাই দাবি—এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে এবং যুবসমাজকে বাঁচাতে অনতিবিলম্বে যেন প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মাদক ব্যবসা বৃদ্ধি এবং পুলিশের ঝিমিয়ে পড়া অভিযানের বিষয়ে কথা হয় কাজিরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান-এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমাদের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত ও অব্যাহত আছে। মাদকের সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে ওসির এই আশ্বাসের পরেও বাস্তবে কাজিরহাটের মাদকের যে জাল বিস্তার লাভ করেছে, তা থেকে মুক্তি পেতে ঊর্ধ্বতন মহলের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

