লোহাগড়া প্রতিনিধি:নড়াইল
নড়াইলে লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মিরচাঁন সরদার (৩৬) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ ঘটনায় দুপক্ষের মধ্যে আহত হয়েছেন ৭জন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় উপজেলার মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে এ খুনের ঘটনা ঘটে।
নিহত মিরচাঁন সরদার উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত লোকমান সরদারের ছেলে।
স্বজন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি আজমল মুন্সি এবং বর্তমান ইউপি সদস্য কামাল গ্রুপের সাথে কোটাকোল ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল মোল্যা এবং হিরাঙ্গীর মোল্যা গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো।
এই বিরোধের জের ধরে সকাল ১১টায় প্রতিপক্ষের হামলায় মিরচাঁন সরদার নামে এক যুবক খুন হয়।
এ ঘটনায় মুন্সি গ্রুপের ইউপি সদস্য কালাম মুন্সি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দুপক্ষের মধ্য সামাজিক ও রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সকাল ১১টার দিকে নিহত মিরচাঁন সরদার আমার বাড়ির উদ্যেশ্য রওনা করলে প্রতিপক্ষের কোটাকোল ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল মোল্যা এবং হিরাঙ্গির মোল্লার নেতৃত্বে মিল্লাত হোসেন, লিয়াকত সরদার, জসিম উদ্দিন, রবিউল শেখসহ অন্তত ৫০ জনের একদল দুর্বৃত্ত মিরচাঁন সরদারকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে।
এ সময় স্থানীয়রা আহত মিরচাঁনকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পথিমধ্যে মাদারিপুর জেলার পাঁচচর এলাকায় পৌঁছালে তার মৃত্যু হয়।
এছাড়া একই ঘটনায় মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের জাফর মুন্সির ছেলে সালাম মুন্সিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। আহত সালাম মুন্সিকে প্রথমে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। জানা গেছে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়াও মুন্সি গ্রুপের খাঁজা সরদার, সিয়ামিন সরদার, সারফিনা বেগমসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতরা লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এছাড়া কালাম মেম্বর প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন এই নৃশংস খুনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী করেন।
এ ঘটনা প্রতিপক্ষের নেতা শহীদুল মেম্বারের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেনি। এই নৃশংস খুনের ঘটনায় ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আব্দুর রহমান জানান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন খুনের ঘটনায় যারা জড়িত তাদের আটকের চেষ্টা চলছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এই নৃশংস খুনের ঘটনায় ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ ভারী হয়ে উঠেছে।

